মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আলামত: তাইজে সৌদির তীব্র বিমান হামলা, আল-সাকাব ফ্রন্টে হুথিদের যুদ্ধপ্রস্তুতি

সানা’আ, ১৫ সেপ্টেম্বর – ইয়েমেনের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নগরী তাইজে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে তীব্র ও নিরবচ্ছিন্ন বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে সৌদি আরব। আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) তাইজ থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদক সরাসরি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এক পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের মারাত্মক শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিমান হামলার মূল লক্ষ্য: তাইজ বিমানবন্দর ও মোখা সংঘাত
ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সাম্প্রতিক এই বিমান হামলার পেছনে কাজ করছে মোখা বন্দরের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনা:
ব্যালিস্টিক মিসাইল প্ল্যাটফর্ম ধ্বংস: তাইজ বিমানবন্দরে অবস্থিত হুথিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার মূল প্ল্যাটফর্মকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে সৌদির এফ-১৫ (F-15) ও ইউরোফাইটার টাইফুন বিমান।
মোখা বন্দর দখল: গত সপ্তাহে এই প্ল্যাটফর্ম থেকেই লোহিত সাগরের কৌশলগত বন্দরনগরী ‘মোখা’য় মিসাইল হামলা চালিয়েছিল হুথি যোদ্ধারা। এরপরই তারা সেখানে স্থল অভিযান চালিয়ে মোখা পুরোপুরি দখল করে নেয়।
দক্ষিণ তাইজে তাণ্ডব: তাইজ ছাড়াও দক্ষিণ তাইজের খাদির জেলা, ধুবাব এবং পূর্বাঞ্চলেও সৌদির যুদ্ধবিমান ভারী বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে।
পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ: আল-সাকাব ফ্রন্টে হুথিদের সেনা মোতায়েন
সৌদির এই বিধ্বংসী বিমান হামলার জবাবে হুথি বিদ্রোহীরাও পিছিয়ে নেই। তারা তাদের কৌশলগত অবস্থান শক্ত করতে সেনাবহর বাড়াচ্ছে:
ভারী অস্ত্র পাঠাল হুথিরা: তাইজের উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত আল-সাকাব ফ্রন্টে বিপুলসংখ্যক সশস্ত্র যোদ্ধা, সাঁজোয়া যান ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র পাঠিয়েছে হুথিরা।
গোলাবর্ষণ: ইয়েমেনি সেনাবহরকে লক্ষ্য করে আল-খাদেহা ফ্রন্টে পরপর চার রাউন্ড তোপ বা গোলা ছুড়েছে বিদ্রোহীরা।
৩০০ বিমান হামলার দাবি: হুথিদের তথ্যমতে, গত মাত্র ৫ দিনে সৌদি আরব ইয়েমেনে ৩০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ, চরম উত্তেজনার মুখে মধ্যপ্রাচ্য
বিগত দুই সপ্তাহ ধরে সৌদি আরব ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী এই সংঘাত নজিরবিহীন রূপ নিয়েছে। টেলিগ্রামের এক বিবৃতিতে হুথিরা স্পষ্ট হুমকি দিয়ে জানিয়েছে—সৌদি জোট যদি বিমান হামলা অব্যাহত রাখে, তবে তারা যুদ্ধের উত্তেজনা ও আক্রমণের মাত্রা বহু গুণে বাড়িয়ে দেবে।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও বিশেষজ্ঞ মতামত
লোহিত সাগরের বাণিজ্য পথ এবং কৌশলগত এলাকার ওপর এমন দফায় দফায় হামলায় বৈশ্বিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে: “মোখা বন্দর ও তাইজের মতো সংবেদনশীল এলাকা হাতছাড়া হওয়ার পর সৌদি জোট যেকোনো মূল্যে হুথিদের সরবরাহ লাইন বিচ্ছিন্ন করতে চাইছে। এর ফলে কয়েক বছরের সাময়িক শান্তি ভেস্তে গিয়ে নতুন এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে।” — সামরিক বিশ্লেষক
এনএন/ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬







