সুপ্রিম কোর্টে ককটেল বিস্ফোরণ: ‘আমলে নিচ্ছেন না’ বললেন চিফ প্রসিকিউটর!

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর – জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পরপরই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান গেটে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ‘আমলে নিচ্ছে না’ বলে পরিষ্কার জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর জানান, ট্রাইব্যুনালের ভেতরে ও বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের সদস্যদের কঠোর নিরাপত্তা সার্বক্ষণিক বহাল রয়েছে। তাই ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনাকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
আইসিটি-২ ট্রাইব্যুনালের ৭ম রায়: যাদের দেওয়া হলো মৃত্যুদণ্ড
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল (অন্য দুই সদস্য: বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর) এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে সরাসরি নির্দেশনা ও উসকানি দেওয়ার দায়ে পলাতক ৭ আসামির প্রত্যেককে **মৃত্যুদণ্ড** দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা
- ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক, নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
- আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
- মোহাম্মদ আলী আরাফাত সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী
- শেখ ফজলে শামস পরশ চেয়ারম্যান, নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগ
- মাইনুল হোসেন খান সাধারণ সম্পাদক, নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগ
- সাদ্দাম হোসেন সভাপতি, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ
- শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান সাধারণ সম্পাদক, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ
উল্লেখ্য, দণ্ডপ্রাপ্ত ৭ আসামির সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগের ধরন
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে তৎকালীন শাসকদলের শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের ভূমিকা তদন্ত করে মোট ৪টি করে অভিযোগ আনা হয়। চিফ প্রসিকিউটর জানান, অধিকাংশ অভিযোগই আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ: আন্দোলনকারীদের দমনে দলীয় ক্যাডারদের মাঠে নামানোর নির্দেশ, ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত করা এবং সাদ্দাম হোসেনের সাথে ফোনালাপ ও বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনবিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান।
অন্যান্য প্রমাণ: ১১ জুলাইয়ের অডিও ফোনালাপ, ১৪ জুলাই গণভবনে শেখ হাসিনার বিতর্কিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতি এবং ১৫ জুলাই ধানমন্ডি কার্যালয়ে দেওয়া বক্তব্যকে ট্রাইব্যুনালে তথ্যপ্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত এটি সপ্তম রায়। সুপ্রিম কোর্ট ও ট্রাইব্যুনাল এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
এনএন/ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬







