ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়

মঙ্গলবার ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই মামলায় প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে চারটি করে চার্জ বা অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের অধিকাংশই আসামিদের বিরুদ্ধে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে।
আসামিরা পলাতক থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, তারা এখন দণ্ডপ্রাপ্ত। তাই তাদের অবস্থান শনাক্ত করা গেলে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পদ বাজেয়াপ্তের বিষয়ে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আজকের রায় অনুযায়ী সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং জুলাই ফাউন্ডেশনের বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে সেগুলো বিক্রির ব্যবস্থা করে জুলাইয়ের আহত ও নিহতদের পরিবারের মধ্যে অর্থ বণ্টনে আর কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়।
তিনি বলেন, এই রায় বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের। কার কী সম্পদ রয়েছে, সরকার তা খুঁজে বের করবে। এরপর যে সম্পদ পাওয়া যাবে, তার অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করা হবে।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আজকের রায় প্রকাশের পর আপিলের জন্য ৩০ দিন সময় থাকবে। এই ৩০ দিনের মধ্যে কোনো সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ হয়তো থাকবে না। তবে ৩০ দিন পর রায় বাস্তবায়নে আর কোনো আইনগত বাধা থাকবে না।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর দেওয়া রায়ে ওবায়দুল কাদের ছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক অন্য আসামিরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, নিষিদ্ধ যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
এদিকে, আজকের রায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
বাজেয়াপ্ত করা এসব সম্পত্তি বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা থেকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে নিহত ও আহত ব্যক্তি বা তাদের পরিবারকে জুলাই ফাউন্ডেশন কিংবা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামসহ অন্য প্রসিকিউটররা ছিলেন। অন্যদিকে, পলাতক আসামি ওবায়দুল কাদের, নাছিম ও আরাফাতের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এম হাসান ইমাম। আর ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক এবং যুবলীগ সভাপতি-সম্পাদকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ইশরাত জাহান।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রথম রায় দেন।
এস এম/ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬







