আইন-আদালত

আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হরতাল-ধর্মঘট সম্পূর্ণ অবৈধ, কঠোর শাস্তির নির্দেশ

ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর – আদালতের কোনো রায় বা আদেশের প্রতিবাদে পরিবহন সংগঠন বা অন্য যেকোনো পক্ষের ডাকা যেকোনো ধরনের ধর্মঘট বা হরতালকে অসংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এ ধরনের কর্মসূচি ডাকা হলে পরিবহন মালিক সমিতি বা শ্রমিক সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধিসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ২০১৭ সালে জারি করা একটি রুলকে চূড়ান্ত (অ্যাবসিউলুট) ঘোষণা করে বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

ঐতিহাসিক এই রায়ের মূল বিষয়াবলি

অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা: বিচারিক আদেশের প্রতিবাদে ডাকা যেকোনো হরতাল বা ধর্মঘট সংবিধানবিরোধী এবং আইনের দৃষ্টিতে পুরোপুরি অবৈধ।

কঠোর আইনি ব্যবস্থার নির্দেশ: রায় অমান্য করে ধর্মঘট ডাকলে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধিসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্র সচিব, বিআরটিএ এবং বিআরটিসিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ: হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের রায় ও আদেশ মেনে চলা সবার ওপর বাধ্যবাধকতামূলক। সংক্ষুব্ধ হলে আপিল করার সুযোগ থাকলেও ধর্মঘটের পথ বেছে নেওয়া বেআইনি।

মামলার ইতিহাস (২০১৭): ২০১১ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ ৫ জন নিহতের মামলায় ২০১৭ সালে এক বাসচালককে কারাদণ্ড দেন মানিকগঞ্জের আদালত। রায়ের প্রতিবাদে পরিবহন মালিকদের ডাকা ধর্মঘটের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে রিট করে মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’ (এইচআরপিবি)।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ: “আদালতের রায়ে ক্ষুব্ধ ব্যক্তির আপিল করার আইনি অধিকার রয়েছে, কিন্তু রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট ডাকা আইনের প্রতি অবমাননা। এ ধরনের কর্মসূচি নাগরিকদের চলাচলের মৌলিক অধিকার হরণ করে।”

আদালতের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে বিচারিক আদেশের অজুহাতে পরিবহন ধর্মঘট ডেকে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার সংস্কৃতি বন্ধ হবে বলে মনে করছেন আইনজীবী ও আইন বিশেষজ্ঞরা।

এনএন/ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language