স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে ডিগ্রির প্রয়োজন নেই, আটকে যাচ্ছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভাগ্য

ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর – স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো দরকার নেই—এমনটাই স্পষ্ট করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই বিষয়ে শেষ কথা বলবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা উঠে আসে।
প্রতিবেদনের মূল বিশ্লেষণ ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট
শিক্ষাগত যোগ্যতা উন্মুক্ত: ইউপি সদস্য, ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, কাউন্সিলর এবং সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর—স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনের কোনোটিতেই শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।
সাংবিধানিক ও মানবিক যুক্তি: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে যেহেতু কোনো ডিগ্রি লাগে না, তাই স্থানীয় সরকারেও এই নিয়ম প্রযোজ্য। সরকারের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক সনদ না থাকলেও একজন মানুষ স্বশিক্ষিত, অভিজ্ঞ ও যোগ্য জনপ্রতিনিধি হতে পারেন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জটিলতা: স্থানীয় সরকার আইনে বলা আছে—প্রজাতন্ত্রের বা কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের লাভজনক পদে কর্মরত ব্যক্তি নির্বাচনে অযোগ্য হবেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা ২০২৫: বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৫-এর বিধি ১১.১৭(খ) অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক একই সময়ে অন্য কোনো লাভজনক পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।
সিদ্ধান্তের ভার ইসির ওপর: নির্বাচন কমিশন এখন স্থানীয় সরকার আইন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা ২০২৫ এক জায়গায় রেখে চূড়ান্ত রূপরেখা ঠিক করবে। প্রয়োজনে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি বক্তব্য: “ফরমালি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও একজন মানুষ স্বশিক্ষিত বা সমাজসেবক হতে পারেন। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিষয়ে ইসি আইন পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজবে কান না দিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অফিসিয়াল আইনি নির্দেশনার প্রতি খেয়াল রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এনএন/ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬







