মালয়েশিয়ায় জাল ভিসা নথি তৈরি চক্রের ২৭ বাংলাদেশি গ্রেফতার

কুয়ালালামপুর, ১৬ সেপ্টেম্বর – মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের জন্য ভূয়া ও জাল নথি তৈরির একটি সক্রিয় চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জালিয়াত চক্রটির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে মোট ২৭ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইলের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম “মালয় মেইল” জানায়, সোমবার কুয়ালালামপুরের ব্যস্ততম ‘জালান চান সো লিন’ বাণিজ্যিক এলাকার ১১টি স্থানে একযোগে ‘অপস সেরকাপ’ (Op Serkap) নামে পরিচালিত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
এক নজরে অভিযানের মূল তথ্য ও জব্দকৃত আলামত
অভিযানে উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামাদি এবং চক্রটির কারসাজি সম্পর্কিত মূল তথ্য নিচে উল্লেখ করা হলো:
- মোট আটক বাংলাদেশি ২৭ জন
- চক্রের মূল হোতা (অভিযুক্ত) ১১ জন (১০ পুরুষ, ১ নারী)
- অন্যান্য আটক বিদেশি ৩ জন (১ মিয়ানমার, ২ ইন্দোনেশিয়া)
- আটক বাকি ১৬ বাংলাদেশি অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত
- জব্দকৃত প্রযুক্তি সামগ্রী| ১৮টি ল্যাপটপ, ২১টি প্রিন্টার ও স্ক্যানার, ৩টি মোবাইল
- উদ্ধার হওয়া নথি ১০টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, ভূয়া পুলিশ রিপোর্ট ও জাল ওয়ার্ক পারমিট
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন জানান, এই চক্রটি অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে বিদেশি কর্মীদের কাছে ভুয়া নথিপত্র বিক্রি করে আসছিল।
- জাল অস্থায়ী কর্মসংস্থান পাস (PLKS): প্রতি কপি ১৫০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতে বিক্রি করা হতো।
- ভুয়া পুলিশ রিপোর্ট: প্রতি কপি ৭০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতে বিক্রি করা হতো।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ স্পষ্ট করেছে যে, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কারসাজি এবং নথি জাল করার সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এই গ্রেফতারের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দীর্ঘ জটিলতার পর বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
সিন্ডিকেট ও শ্রমবাজারের জটিলতা
অনিয়ম ও শ্রম শোষণের অভিযোগের কারণে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ করেছিল মালয়েশিয়া। অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠাতে ৩১২টি সংস্থাকে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটিং এজেন্সি’ হিসেবে নতুন করে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল, যার আগে বোয়েসেলসহ ২৫টি এজেন্সির অনুমোদন ছিল।
অর্থ আত্মসাত ও এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল
কর্মীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি-এর চেয়ে ৫ গুণ পর্যন্ত বেশি অর্থ আদায় ও মোট ৪,৫৪৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে দেশের ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করেছিল বাংলাদেশ সরকার।
মালয়েশিয়ায় একের পর এক জাল নথি তৈরির ঘটনা প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি নতুন করে দুই দেশের মধ্যকার শ্রম কূটনৈতিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এনএন/ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬







