উত্তর আমেরিকা

মার্কিন দূতাবাসগুলোতে ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন

ওয়াশিংটন, ২৬ আগস্ট – বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে ভিসা সাক্ষাৎকারের পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি সাময়িকভাবে স্থগিত ও পুনর্বিন্যাস করতে শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের জন্য একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো আবেদনকারীরা মার্কিন সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না তা যাচাই করা এবং ভিসা মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে আরও সমন্বিত করা। জানা গেছে অনেক আবেদনকারী ইমেইলের মাধ্যমে তাদের পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাৎকারের তারিখ বাতিলের বার্তা পেয়েছেন।

বার্তায় জানানো হয়েছে যে পরবর্তীতে তাদের নতুন সময় জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে এই স্থগিতাদেশ ঠিক কতদিন চলবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানায়নি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

শুধু অবৈধ অভিবাসন রোধ নয় বরং বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও একের পর এক কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। অনেক ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল করার পাশাপাশি পর্যটক ও ব্যবসায়ী ভিসায় থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয়ের আবেদন এবং অতিরিক্ত অবস্থানের বিষয়টিও নজরদারিতে আনা হচ্ছে।

প্রায় ২ লাখ এজাতীয় ভিসাধারীর ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ভারতীয় পেশাজীবীদের ব্যবহৃত এইচ ওয়ানবি ভিসা কর্মসূচিতে বড় ধরনের সংস্কারের প্রস্তাব বিবেচনা করছে হোয়াইট হাউস। এতে প্রায় ১০ কোটি ডলার বা তারও বেশি অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে।

এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু কাজের ভিসায় অতিরিক্ত ফি যুক্ত করে অভিবাসীদের পথ কঠিন করা হয়েছে। এদিকে সম্প্রতি এক মার্কিন বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতিকে অবৈধ বলে রায় দেন।

রায়ে বলা হয় তৎকালীন সিদ্ধান্তটি পররাষ্ট্র সচিবের আইনগত ক্ষমতার বাইরে ছিল। মার্কিন প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এসব উদ্যোগের কথা বললেও মানবাধিকার সংগঠনগুলো একে বৈষম্যমূলক ও বাকস্বাধীনতা বিরোধী বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এস এম/ ২৬ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language