আমার নীতি না থাকলে মার্কিন তেল শিল্প ধ্বংস হতো: ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ৪ আগস্ট – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তার প্রশাসনের গৃহীত নীতি ও পদক্ষেপ না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল শিল্প বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতো। একই সঙ্গে তিনি বহুজাতিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান শেভরনের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইক ওয়ার্থের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
ট্রাম্পের অভিযোগ কোম্পানির সাফল্যে তার প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কোনো স্বীকৃতি দেননি মাইক ওয়ার্থ। সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন যে তার প্রশাসনের মেধা এবং দূরদর্শিতার কারণেই মার্কিন জ্বালানি খাত রক্ষা পেয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাইক ওয়ার্থ শেভরনের সফলতার নানা কারণ ব্যাখ্যা করলেও ট্রাম্প প্রশাসনের অবদানের কথা এড়িয়ে গেছেন। একই সঙ্গে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে খুচরা জ্বালানির দাম দ্রুত কমানোর আহ্বান জানান তিনি যাতে সাধারণ ভোক্তারা স্বস্তি পেতে পারেন।
ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প দাবি করেন যে তার প্রশাসনের কঠোর পররাষ্ট্রনীতির ফলেই শেভরন সেখানে পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। তিনি মনে করেন তার চাপের কারণেই দেশটিতে উল্লেখযোগ্য সম্পদ অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে শেভরনের সিইও মাইক ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার জন্য ইরান কেন্দ্রিক সংঘাত এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয় এবং এই রুটে সরবরাহ ব্যাহত হওয়া বৈশ্বিক মজুতের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
এই ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও পেট্রোলের দাম বেড়েছে। বর্তমানে দেশটিতে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় খুচরা মূল্য ৫ দশমিক ১০ ডলারে পৌঁছেছে। ট্রাম্পের দাবি চলমান সংঘাতের অবসান হলে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে বৈশ্বিক সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি বাজারের এই অনিশ্চয়তা সহজে কাটবে না।
এস এম/ ৪ আগস্ট ২০২৬









