উত্তর আমেরিকা

মধ্যপ্রাচ্যে সংকটে যুক্তরাষ্ট্র: ইসরায়েল নাকি নিজস্ব ঘাঁটি রক্ষায় হিমশিম ট্রাম্প প্রশাসন

ওয়াশিংটন, ২ আগস্ট – মধ্যপ্রাচ্যে চলমান দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ফলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা এবং অস্ত্রভান্ডারের ওপর নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক জটিল সমীকরণের সম্মুখীন হয়েছেন।

একদিকে মিত্র দেশ ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন নিজস্ব সেনাসদস্য ও সামরিক ঘাঁটি রক্ষা করার মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নেওয়ার মতো পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও সিএনএনের প্রতিবেদনে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে ইসরায়েলকে রক্ষা করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা এই দুই দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করার মতো পর্যাপ্ত নৌ সামরিক শক্তি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে না থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, ইরানের সাথে সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতার ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে।

এ অঞ্চলে দ্রুত আরও একটি যুদ্ধজাহাজ বা ডেস্ট্রয়ার পাঠানো না হলে মার্কিন কমান্ডারদের হয়তো বড় কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনীর সুরক্ষা নাকি ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বজায় রাখা হবে, তা নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ২০০টির বেশি থাড ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে, যা তাদের মোট মজুতের প্রায় অর্ধেক। এছাড়া মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে ১০০টিরও বেশি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।

গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের প্রায় ৪৫ শতাংশ এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের ৫০ শতাংশ খরচ করে ফেলেছে। এমনকি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ৩০ শতাংশও ইতিমধ্যে ব্যবহার হয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আধুনিক প্রতিরক্ষা অস্ত্রগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এগুলোর উৎপাদন প্রক্রিয়া বেশ জটিল। ফলে নিঃশেষ হওয়া মজুত দ্রুত পূরণ করা প্রায় অসম্ভব। এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিশ্বজুড়ে একাধিক সংকটে যুক্তরাষ্ট্রকে এখন যেকোনো একটি ফ্রন্ট বেছে নিতে হতে পারে, কারণ তাদের সামরিক সক্ষমতা সীমাহীন নয়।

এস এম/ ২ আগস্ট ২০২৬


Back to top button