
গতকাল রোববার টরন্টোর থমসন মেমোরিয়াল পার্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে নগরীর সর্ববৃহৎ সামাজিক সংগঠন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব টরন্টোর বার্ষিক বনভোজন। প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে পার্কের বিস্তীর্ণ এলাকা পরিণত হয়েছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।

সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা বনভোজনস্থলে আসতে শুরু করেন। দীর্ঘদিন পর পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা, শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় এবং আড্ডায় পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল আনন্দঘন পরিবেশ। প্রবীণদের স্মৃতিচারণ, তরুণদের উচ্ছ্বাস এবং শিশু-কিশোরদের প্রাণচাঞ্চল্যে থমসন মেমোরিয়াল পার্কে যেন এক টুকরো বাংলাদেশ ফুটে উঠেছিল।

জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন মূলত বৃহত্তর সিলেটের মানুষের সংগঠন হলেও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ বনভোজনে অংশ নেন। ফলে অনুষ্ঠানটি আঞ্চলিক পরিচয়ের সীমানা অতিক্রম করে টরন্টোয় বসবাসরত বাংলাদেশিদের সর্বজনীন সামাজিক উৎসবে রূপ নেয়।

এবারের বনভোজনে বাড়তি আনন্দ যোগ করে পার্কের খোলা আঙিনায় ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল প্রদর্শনের বিশেষ ব্যবস্থা। অস্থায়ীভাবে স্থাপিত বিশাল ডিজিটাল পর্দায় স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। বনভোজনে আসা হাজার হাজার মানুষ খোলা মাঠে বসে একসঙ্গে খেলাটি উপভোগ করেন।


খেলা চলাকালে প্রিয় দলের আক্রমণ, গোলের সম্ভাবনা এবং নাটকীয় মুহূর্তে দর্শকদের সম্মিলিত উল্লাসে পার্কের পরিবেশ অনেকটাই স্টেডিয়ামের রূপ নেয়। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের সমর্থকেরা নিজ নিজ দলের পতাকা, জার্সি ও রং নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। অনেকের ভাষ্য, বিশাল পর্দায় এত মানুষের সঙ্গে বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখার সময় তাঁদের মনে হয়েছে, তাঁরা যেন স্টেডিয়ামে বসেই খেলাটি উপভোগ করছেন।

ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল প্রদর্শনের এ বিশেষ ব্যবস্থা করা হয় স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের অন্টারিও লিবারেল পার্টির এমপিপি পদপ্রার্থী আহসানুল হাফিজের সৌজন্যে। তাঁর এ উদ্যোগ বনভোজনের আনন্দে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে এবং ফুটবলপ্রেমীদের জন্য দিনটিকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।

সদ্য নির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব টরন্টোর প্রথম আয়োজন। দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে এমন একটি অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা নতুন পরিষদের জন্য ছিল বড় সাংগঠনিক পরীক্ষা। অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও উৎসবমুখর পরিবেশ তাদের সেই উদ্যোগকে সফল করে তোলে। কমিউনিটির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ বনভোজনে উপস্থিত থেকে আয়োজকদের উৎসাহ দেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।


বনভোজনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল, এতে অংশগ্রহণের জন্য কাউকে নিবন্ধন করতে কিংবা কোনো ধরনের ফি দিতে হয়নি। সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা ব্যক্তিগতভাবে অর্থ দিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের খাবারের ব্যয় বহন করেন। প্রবাসে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য বিনা মূল্যে বনভোজনের ব্যবস্থা করা নিঃসন্দেহে বড় দায়িত্ব এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার দৃষ্টান্ত।


আয়োজকেরা অতিথিদের স্বাগত জানানো থেকে শুরু করে খাবার পরিবেশন ও অনুষ্ঠান পরিচালনা পর্যন্ত বিভিন্ন দায়িত্ব ভাগ করে নেন। অনুষ্ঠান শেষে পরিষদের সভাপতি এবাদ চৌধুরী, লিবারেল এমপিপি প্রার্থী আহসানুল হাফিজ, সংগঠনের সদস্য এবং শিশু-কিশোরদের মাঠ পরিষ্কার করতেও দেখা যায়। একটি অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করার দায়িত্ব কেবল অতিথি আপ্যায়নেই শেষ হয় না; ব্যবহৃত স্থানটি পরিচ্ছন্ন রেখে যাওয়াও সেই দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ জনসমাগম শেষে পার্ক পরিচ্ছন্ন রেখে যাওয়ার বিষয়টি শুধু আয়োজক সংগঠনের ভাবমূর্তি নয়, প্রবাসে পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির সুনামের সঙ্গেও জড়িত।

দিনের শেষ পর্বে বিভিন্ন স্পনসরের সৌজন্যে লটারির আয়োজন করা হয়। বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় নানা ধরনের পুরস্কার। লটারিকে ঘিরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তৈরি হয় বাড়তি আগ্রহ ও আনন্দ। পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী উৎসবমুখর বনভোজনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
এনএন/ ২১ জুলাই ২০২৬









