পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল নেতাদের ঘিরে নতুন অস্বস্তি ডিম আতঙ্ক

কলকাতা, ১০ জুন – পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত জনরোষ এক ভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করেছে। বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার বা আটক হওয়া শাসকদলের নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা এখন রাজ্যের প্রায় সর্বত্রই দেখা যাচ্ছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তৃণমূলের অনেক নেতার মধ্যে বর্তমানে ডিম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দুর্নীতি ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠিত হলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এর প্রেক্ষাপটে গত ১৫ বছরে তৃণমূলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়।
গ্রেফতার হওয়া নেতাদের যখন আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তখন বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের লক্ষ্য করে কাঁচা বা পচা ডিম ছুড়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। সম্প্রতি সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
এছাড়া প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়, তৃণমূল মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার, সাবেক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস এবং বিধায়ক মদন মিত্রসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা এ ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। জনরোষের এই ডিম নিক্ষেপ ঠেকাতে পুলিশ বাহিনীকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
অনেক সময় বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ডিম পুলিশের গায়ে লেগে তাদের পোশাক নষ্ট হচ্ছে এবং এক বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে এই ডিম নিক্ষেপ এখন রাজনৈতিক প্রতিবাদের এক প্রতীকী ভাষায় পরিণত হয়েছে।
বিরোধী পক্ষ এই ঘটনাকে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ হিসেবে বর্ণনা করলেও তৃণমূল কংগ্রেস একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দাবি করছে। সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনীতিতে ডিম আতঙ্ক শব্দটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এস এম/ ১০ জুন ২০২৬









