বাগেরহাটে মাজারের দিঘি থেকে কুমির অপসারণের প্রতিবাদে খাদেমদের সংবাদ সম্মেলন

বাগেরহাট, ৭ জুন – বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘি থেকে কুমির সরিয়ে নেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাজারের খাদেমরা। অবিলম্বে দিঘিতে পুনরায় কুমির অবমুক্ত করার দাবিতে রোববার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মাজারের প্রধান খাদেম ও স্থানীয় নেতা ফকির তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে আয়োজিত এই সম্মেলনে বক্তারা কুমির অপসারণকে ইতিহাসের সাথে বড় ধরনের প্রতারণা বলে অভিহিত করেন। লিখিত বক্তব্যে জানানো হয় যে মাজার কর্তৃপক্ষের সাথে কোনো প্রকার আলোচনা বা অনুমতি ছাড়াই দিঘি থেকে শেষ কুমিরটি নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এর আগেও চিকিৎসার অজুহাতে দুটি কুমির নেওয়া হলেও সেগুলো আর ফেরত দেওয়া হয়নি। বক্তারা যেকোনো মূল্যে বর্তমান ও পূর্বের সকল কুমির দিঘিতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। ইতিহাস অনুযায়ী প্রায় সাড়ে ৬শ বছর আগে স্থানীয়দের সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে খানজাহান আলী (রহ.) এই বিশালাকার দিঘিটি খনন করেছিলেন।
দিঘির পানির সুরক্ষায় তিনি ধলা পাহাড় ও কালাপাহাড় নামে দুটি কুমির এখানে ছেড়েছিলেন। সেই থেকে মাজারের দিঘিতে কুমিরের উপস্থিতি এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। তবে প্রজনন সমস্যা ও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় কুমিরের সংখ্যা ক্রমশ কমতে থাকে।
সর্বশেষ ২০১৫ সালে আদি বংশধরের মৃত্যুর পর ভারত থেকে নতুন কুমির আনা হলেও বিভিন্ন সময়ে সেগুলোও মারা যায়। গত ১ জুন দিঘিতে গোসল করতে নামলে শিশু ফাতেমা আক্তার কুমিরের আক্রমণে প্রাণ হারায়। এর প্রেক্ষিতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ৩ জুন জেলা প্রশাসন কুমিরটিকে খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়।
মাজারের খাদেমরা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন যে কুমির অপসারণের মাধ্যমে প্রাচীন ঐতিহ্যের অবসান ঘটানো হয়েছে। তারা অবিলম্বে কুমির ফিরিয়ে আনার দাবি জানান অন্যথায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন। সংবাদ সম্মেলনে মাজার পরিচালনা কমিটির সদস্যসহ অর্ধশতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।
এস এম/ ৭ জুন ২০২৬









