বাগেরহাট

বাগেরহাটে বিএনপিকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, ডান হাত কেটে নিয়ে গেল দুর্বৃত্তরা!

বাগেরহাট, ১৯ মে – রক্তের হোলিখেলা ও চরম বর্বরতার সাক্ষী হলো বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা। বাড়ি ফেরার পথে এক বিএনপি কর্মীকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্য দিবালোকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। নৃশংসতার এখানেই শেষ নয়, হত্যার পর ওই ব্যক্তির আস্ত ডান হাতটি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে কেটে নিয়ে গেছে ঘাতকেরা।

গতকাল সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার হোগলাপাশা ইউনিয়নের বৌলপুর গ্রামে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত মিন্টু শেখ ওরফে মিঠু শেখ (৪৫) হোগলাপাশা ইউনিয়নের বৌলপুর গ্রামের ওহেদ শেখের ছেলে। পেশায় তিনি একজন কৃষক এবং সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।

সোমবার বিকেলে নিজের বাড়ির কাছেই একটি কলাক্ষেতে কাজ করছিলেন মিঠু। কাজ শেষ করে সন্ধ্যার দিকে যখন তিনি বাড়ি ফিরছিলেন, ঠিক তখনই পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ফেলে রেখে যায় তারা।

পরবর্তীতে স্থানীয় মানুষজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু আঘাত গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালের বেডেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।

নিহত মিঠু শেখের ভাই মিজান শেখ বুকফাটা আর্তনাদ করে গণমাধ্যমকে জানান, হামলাকারীরা কেবল কুপিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, চরম নৃশংসতার পরিচয় দিয়ে তাঁর ভাইয়ের আস্ত ডান হাতটি কেটে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে। নিহত মিঠুর পরিবারে বর্তমানে ২ ছেলে, ৩ মেয়ে এবং তাঁর স্ত্রী রয়েছেন। উপার্জক্ষম অভিভাবককে হারিয়ে পরিবারটি এখন সম্পূর্ণ দিশেহারা।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ইয়াদ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘নিহত মিঠু হোগলাপাশা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। আমরা এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার চাই।’ তিনি আরও জানান, বিগত কয়েক বছর আগে নিহত মিঠুর চাচাতো ভাই মাস্টার গোলাম রসুলকেও একইভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল।

ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমানসহ পুলিশের একটি বড় দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওসি মো. মাহমুদুর রহমান জানান, লাশ ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান জমিজমা সংক্রান্ত চরম বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে এর পেছনে অন্য কোনো মোটিভ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেফতার করতে ইতিমধ্যেই পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে।

এনএন/ ১৯ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language