ডলারের পতন ও তেলের দাম কমতেই বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ল স্বর্ণের দাম

ঢাকা, ১৯ মে – আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়া এবং মার্কিন ডলারের আকস্মিক দুর্বলতার কারণে বিশ্ববাজারে আবারও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ কিছুটা হলেও কমেছে। তবে সরকারি বন্ডের উচ্চ মুনাফা বা ইল্ডের কারণে স্বর্ণের দাম বাড়ার গতি এখনও কিছুটা নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সোমবার (১৮ ১৮ মে) দিনের শুরুতে স্বর্ণের দাম গত ৩০ মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। তবে মার্কিন ডলারের দরপতনের পর তা অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায়।
আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট এবং ফিউচার মার্কেটে মূল্যবান ধাতুগুলোর দামের বর্তমান চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট (স্বর্ণ): ০.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ৪,৫৬৭.৪৯ ডলার।
মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার মূল্য (জুন ডেলিভারি): ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স হয়েছে ৪,৫৭২.৪০ ডলার।
রুপা (স্পট মার্কেট): ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৭৭.৫ ডলার।
প্লাটিনাম: ০.১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১,৯৭৫.৫ ডলার।
প্যালাডিয়াম: তবে এর দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১,৪০৪.৭৫ ডলারে নেমে এসেছে।
আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষক জিম উইকফ জানান, বিশ্বের প্রধান প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে মার্কিন ডলারের সূচক দিনের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে। ডলারের দাম কমায় অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীদের কাছে ডলারভিত্তিক স্বর্ণ কেনা এখন অনেক সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে, যার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা ও দাম একসাথেই বেড়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের তেলের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে—এমন গুঞ্জনে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডব্লিউটিআই (WTI) ও ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২ ডলার কমে গেছে। ইরান, ইসরায়েল ও আমেরিকার চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে তেলের দাম কমে যাওয়াকে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্ববাজারে সাময়িকভাবে বিনিয়োগকারীদের চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগ্যান (JPMorgan) ২০২৬ সালের জন্য স্বর্ণের দামের গড় পূর্বাভাস কিছুটা কমিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি চলতি ২০২৬ সালের জন্য গড় স্বর্ণমূল্যের পূর্বাভাস প্রতি আউন্স ৫,৭০৮ ডলার থেকে কমিয়ে ৫,২৪৩ ডলারে নামিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পর বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এই উচ্চ সুদের পরিবেশ বা বন্ডের বাড়তি মুনাফার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী স্বর্ণের চেয়ে বন্ডের দিকে ঝুঁকছেন, যা স্বর্ণের দামকে একবারে আকাশচুম্বী হতে দিচ্ছে না। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণের বাজারের ভাগ্য।
এনএন/ ১৯ মে ২০২৬









