দক্ষিণ এশিয়া

প্রশ্নফাঁস বিতর্কেও অনড় শিক্ষামন্ত্রী: কেন নিজ দলের মন্ত্রীদের আগলে রাখেন মোদী?

নয়াদিল্লি, ২৩ জুলাই – ভারতে প্রশ্নফাঁস নিয়ে চলমান অস্থিরতার মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তীব্র হয়েছে। রাজধানী নয়াদিল্লিতে এক মাসের বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শত শত শিক্ষার্থী। গত কয়েক দিনে এই বিক্ষোভ সহিংস রূপ ধারণ করেছে যা নরেন্দ্র মোদীর টানা তৃতীয় মেয়াদের সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

গত সোমবার পুলিশ বিক্ষোভকারীদের দমাতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে যেখানে শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন। বিরোধী দলগুলো এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে রাজপথে নামছে এবং আটক হচ্ছে।

ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে বড় ধরনের বিতর্ক বা দেশজুড়ে তীব্র দাবি ওঠা সত্ত্বেও কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ না করানোর একটি বিশেষ ধারা মোদী সরকারের আমলে লক্ষ্য করা যায়।

এর আগে ২০১৫ সালে উত্তর প্রদেশের দাদরিতে মোহাম্মদ আখলাক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিতর্কিত মন্তব্য সত্ত্বেও তৎকালীন পর্যটনমন্ত্রী মহেশ শর্মাকে বরখাস্ত করা হয়নি। ২০১৬ সালে হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রোহিত ভেমুলার আত্মহত্যার ঘটনার সময় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী স্মৃতি ইরানি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বান্দারু দত্তাত্রেয়ের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়েছিল পুরো দেশ। অভিযোগ ছিল মন্ত্রীদের চাপের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রদের ওপর বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল। তবুও তারা নিজ পদে বহাল ছিলেন। এমনকি ২০২১ সালে লখিমপুর খেরিতে কৃষক হত্যার অভিযোগে অভিযুক্তের পিতা স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্র তেনিও দীর্ঘ সময় নিজ পদে বহাল ছিলেন।

একমাত্র ব্যতিক্রম হিসেবে করোনা মহামারির সময় ব্যর্থতার দায়ে পদত্যাগ করতে হয়েছিল তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধনকে।

বিরোধীদের মতে জনদাবি উপেক্ষা করে নিজ মন্ত্রিসভার সদস্যদের সুরক্ষা দেওয়া বর্তমান সরকারের স্থায়ী নীতিতে পরিণত হয়েছে।

এনএন/ ২৩ জুলাই ২০২৬


Back to top button