ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ‘ভারতের সংশ্লিষ্টতা’র পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও বিচারের দাবিতে উত্তাল ঢাবি

ঢাকা, ৫ জুন – শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা দেশী-বিদেশী খুনিদের দ্রুত সনাক্তকরণ, পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আন্তর্জাতিক মহলের অধীনে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস। এই হত্যাকাণ্ডে ভারতের সরাসরি মদদ ও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে আজ বাদ জুমা এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’।
শুক্রবার (৫ জুমা) জুমার নামাজ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। এরপর মিছিলটি ক্যাম্পাস ও টিএসসির রাজু ভাস্কর্য প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন শহীদ ওসমান হাদির সমাধির সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।
এ সময় রাজু ভাস্কর্য ও ক্যাম্পাসজুড়ে ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘বাংলাদেশের আজাদি, ওসমান হাদি’, ‘জানতে চায় জনতা, নাম বলো মমতা’র মতো তীব্র স্লোগানে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে।
মমতা ব্যানার্জির বক্তব্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি বলেন, মমতা ব্যানার্জির দেওয়া বক্তব্য প্রমাণ করে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভারতের প্রত্যক্ষ মদদ এবং বাংলাদেশের কিছু এজেন্টের যোগসূত্র রয়েছে। এটি এখন আর কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, আন্তর্জাতিক ঘটনায় রূপ নিয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে চাঞ্চল্যকর বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা উচিত ছিল। কিন্তু পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘হারা প্রার্থীর কোনো কথা আমরা আমলে নিচ্ছি না।’ আমরা জানতে চাই, মমতা ব্যানার্জির বক্তব্য ঠিক কীসের ভিত্তিতে আপনারা প্রত্যাখ্যান করলেন?”
সরকারকে ৭ দিনের ডেডলাইন ও সুনির্দিষ্ট ২ প্রশ্ন
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আগামী ৭ দিনের মধ্যে দুটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে জবাব চাওয়া হয়েছে:
১. জাতিসংঘের তদন্ত: এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তে জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের বিষয়ে সরকারের বর্তমান অবস্থান কী? অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতিসংঘকে চিঠি দেওয়ার যে কথা বলেছিল, তার অগ্রগতি কতদূর?
২. বিচারের রোডম্যাপ: পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ কী?
আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের নিন্দা জানিয়ে জাবের বলেন, কোনো তদন্ত ছাড়াই যারা হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে রাজপথে লড়ছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ছাত্রসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এদের দ্রুত থামানোর জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আমরা নিজেদের পক্ষ থেকে আর কোনো দফা দেব না। আমাদের দফা ও আল্টিমেটাম দেওয়া শেষ। এখন দফা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। সামনে যদি আর কোনো আল্টিমেটাম দিতে হয়, সেটি হবে চূড়ান্ত আন্দোলনের আল্টিমেটাম।”
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সদিচ্ছা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভেতরে থাকা কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে তদন্ত কাঙ্ক্ষিতভাবে এগোচ্ছে না। তাই অবিলম্বে একটি স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানের তদন্ত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার পেছনের মূল হোতাদের মুখোশ উন্মোচন করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
এনএন/ ৫ জুন ২০২৬









