গরু কেনা বন্ধ করলেন মুসলিমরা, বিপাকে হিন্দু ব্যবসায়ীরা! শুভেন্দু সরকারের নতুন আইনের জেরে পশ্চিমবঙ্গে হাহাকার

কলকাতা, ১৯ মে – পশ্চিমবঙ্গের মসনদে বসার পরপরই একের পর এক কড়া সিদ্ধান্তে ওপার বাংলার রাজনীতি কাঁপিয়ে দিচ্ছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে এবার রাজ্য সরকারের একটি নতুন আইনি নির্দেশনার জেরে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার (কোরবানির ঈদ) ঠিক আগ মুহূর্তে এক অভূতপূর্ব ও জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের কড়াকড়ির কারণে এবার ঈদে গরু কেনা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। আর এর ফলে সবচেয়ে বড় বিপদে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু গরু ব্যবসায়ী ও খামারিরা।
বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে এবং হাড়ভাঙা শ্রমে বড় করা গরুগুলো ঈদের মৌসুমে বিক্রি করতে না পেরে খামারিদের মধ্যে এখন চরম হাহাকার ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
সদ্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত বিজেপি সরকার কয়েক দিন আগে একটি কঠোর প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি করেছে।
নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী:
১. রাজ্য সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে কেউ কোনো গরু বা মহিষ জবাই করতে পারবেন না।
২. জবাই বা কোরবানির জন্য গরুর বয়স কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে।
এই কঠোর শর্ত ও আইনি ঝামেলার কারণে মুসলিম ক্রেতারা এবার কোরবানির জন্য গরু কিনতে চরম অনীহা দেখাচ্ছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় পশুর হাটগুলোতে।
পশ্চিমবঙ্গের একটি বড় গ্রাউন্ড রিয়েলিটি হলো—প্রতি বছর শুধুমাত্র কোরবানির ঈদকে টার্গেট করে বিপুল সংখ্যক হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রান্তিক মানুষ ও খামারিরা বড় বড় গরু মোটাতাজা করেন। বিগত বছরগুলোতে এই ব্যবসা নিয়ে তারা কখনো কোনো সমস্যায় পড়েননি। কিন্তু এবার ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে মুসলিম ক্রেতারা বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় কোটি কোটি টাকার লোকসানের মুখে পড়েছেন এই হিন্দু ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, ১৪ বছর বয়সী গরু বাজারে পাওয়া যেমন অসম্ভব, ঠিক তেমনি অনুমতি নেওয়ার ঝামেলার কারণে কেউ গরু কিনতে চাচ্ছেন না।
গতকাল সোমবার (১৮ মে) পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই সংকটের কথা স্বীকার করেন রাজ্যের নতুন নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্র পাল।
খামারিদের লোকসান ও তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের মুখ্যমন্ত্রী পুরো বিষয়টি নিজে দেখছেন। হিন্দু খামারিদের এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় খুব তাড়াতাড়ি কোনো সুনির্দিষ্ট ও বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করবে রাজ্য সরকার। তবে পুরো বিষয়টির ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই খুব দ্রুত বিস্তারিত জানাবেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তোষণের রাজনীতি ও অনুপ্রবেশ বন্ধের পাশাপাশি ধর্মীয় নিয়মে কড়াকড়ি করতে গিয়ে শুভেন্দু সরকার এখন নিজেদের সমর্থক হিন্দু খামারিদের অর্থনৈতিক স্বার্থেরই বড়সড় ক্ষতি করে ফেলেছে। এখন দেখার বিষয়, হিন্দু ব্যবসায়ীদের এই বিপুল আর্থিক ক্ষতি রুখতে এবং আসন্ন ঈদের বাজার স্বাভাবিক করতে শুভেন্দু অধিকারী কী নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেন!
এনএন/ ১৯ মে ২০২৬









