ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বজনদের অনাগ্রহে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন হলেন বাবা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ৬ মে – দীর্ঘ ৩৮ দিন হাসপাতালের বিছানায় রোগের সঙ্গে লড়াই করার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৫০ বছর বয়সী খোকন মিয়া। তবে চিকিৎসার সময় যেমন কেউ পাশে ছিল না, মৃত্যুর পরও শেষ বিদায় জানাতে আসেননি স্ত্রী কিংবা সন্তানরা। পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোয় টানা পাঁচদিন হাসপাতালের মর্গে পড়ে ছিল তার নিথর দেহ। অবশেষে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে বেওয়ারিশ হিসেবেই তাকে দাফন করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খোকন মিয়ার মৃত্যু হয়। তিনি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের করুইন গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সংক্রমণজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ মার্চ পুলিশের সহায়তায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন।
জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করে। হাসপাতাল মর্গে মরদেহ পড়ে থাকার চারদিন পর খোকন মিয়ার ছোট ছেলে রানা লাশ নিতে আসার আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত আসেননি। মুঠোফোনে তিনি জানান যে, বাবার সঙ্গে দীর্ঘকাল তাদের কোনো যোগাযোগ নেই এবং তারা লাশ গ্রহণ করতে পারবেন না।
তার মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরাও একই মনোভাব ব্যক্ত করেন। অবশেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাতিঘর নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে পৌর এলাকার মেড্ডা সংলগ্ন বেওয়ারিশ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ আজহার উদ্দিন জানান, তারা পরিবারটিকে বুঝিয়ে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন এবং দাফনের সব খরচ বহনেরও প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
কিন্তু পরিবারের সদস্যরা মৃতদেহের দায় নিতে সম্পূর্ণ অপারগতা প্রকাশ করেন। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহ হস্তান্তরের চেষ্টা করা হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।
এস এম/ ৬ মে ২০২৬









