মধ্যপ্রাচ্য

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত নিরসনে ইরানের নতুন প্রস্তাব: ১৪ দফা শর্তে কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত

তেহরান, ০৩ মে – মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে সংশোধিত প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড সংশ্লিষ্ট বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। প্রস্তাবটিতে মোট ১৪টি শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার কিছু অংশ ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো—ইরানের আশপাশের দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে তার সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহার করতে হবে। তেহরান মনে করছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিদেশি সেনা উপস্থিতি হ্রাস অপরিহার্য।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই ১৪ দফা প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তিনি এ প্রস্তাব থেকে ইতিবাচক কোনো অগ্রগতি হবে কি না, সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তার এই প্রতিক্রিয়া দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান অবিশ্বাসের মাত্রাকেই সামনে নিয়ে আসে।

তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই প্রস্তাব ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে, যা ইরানের কৌশলগত অবস্থানকে স্পষ্ট করে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দুই মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হলেও ইরান সেটিকে যথেষ্ট মনে করছে না। তেহরানের দাবি, এসব ইস্যু ৩০ দিনের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে স্থায়ীভাবে সংঘাতের অবসানই হওয়া উচিত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আগে ইরানের কাছে ৯ দফার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। এর জবাবেই ইরান ১৪ দফার বিস্তৃত প্রস্তাব দিয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রকে ভবিষ্যতে আর কোনো সামরিক আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে ইরানের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়া, ইরান তার জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নতুন নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রবর্তনের কথাও প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, “আমাদের নতুন প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো যুদ্ধ বন্ধ করা। এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা কূটনৈতিক পথে এগোবে, নাকি সহিংসতার পথ বেছে নেবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই ১৪ দফা প্রস্তাব কেবল একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ নয়, বরং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য পুনর্গঠনের একটি প্রচেষ্টা। তবে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস ও রাজনৈতিক অবস্থানগত পার্থক্য এই উদ্যোগের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। এখন দেখার বিষয়, যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে এই প্রস্তাবে সাড়া দেয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট কোন দিকে মোড় নেয়।

এনএন/ ০৩ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language