ইরানের তেল খাতে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শঙ্কা ডোনাল্ড ট্রাম্পের

ওয়াশিংটন, ২৭ এপ্রিল – নৌ অবরোধের প্রভাবে ইরানের তেল খাতে যান্ত্রিক চাপ বৃদ্ধি পেয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি অনুযায়ী বর্তমান পরিস্থিতি যদি অপরিবর্তিত থাকে তবে আগামী তিন দিনের মধ্যে সেখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। রবিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে অবরোধের কারণে ইরান তাদের উৎপাদিত তেল জাহাজে তুলতে পারছে না। এর ফলে পাইপলাইনের অভ্যন্তরে তেলের মজুত বৃদ্ধি পেয়ে এক ধরণের যান্ত্রিক চাপের সৃষ্টি হচ্ছে।
এই চাপ মাত্রাতিরিক্ত হয়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং অবকাঠামোগত বিপর্যয় ঘটাতে পারে। তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে এমন বিপর্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট স্থাপনা পুনরায় সচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে যা ইরানের জ্বালানি খাতের জন্য দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির কারণ হবে। অন্যদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন ইরানে তেলের সংরক্ষণ ক্ষমতা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দেশটি বর্তমানে স্থলভাগের ট্যাংকগুলোতে তেল জমা করছে কিন্তু সেগুলোর ধারণক্ষমতা খুবই সীমিত।
বিশ্লেষক সংস্থা ক্রিটিক্যাল থ্রেটস প্রজেক্ট এবং এনার্জি অ্যাসপেক্ট মনে করছে সংরক্ষণাগারগুলো পূর্ণ হয়ে গেলে ইরানকে তাদের তেলক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন হঠাৎ উৎপাদন বন্ধ হলে মজুত ব্যবস্থায় বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয় এবং পুনরায় উৎপাদন শুরু করলেও আগের সক্ষমতায় ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগে। এতে দীর্ঘমেয়াদে তেলকূপগুলোর স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা রাখে। স্বল্পমেয়াদি সমাধান হিসেবে ভাসমান সংরক্ষণ ব্যবস্থা ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও একে স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।
এস এম/ ২৭ এপ্রিল ২০২৬









