জাতীয়

জ্বালানিসংকটে রেকর্ড লোডশেডিং: বিপর্যয়ে জনজীবন ও কৃষি খাত

ঢাকা, ১৭ এপ্রিল – জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে রাজধানীসহ সারাদেশে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে দৈনিক আট থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অসহনীয় গরমে শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি আমদানিতে জটিলতা, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিল পরিশোধ না করতে পারায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে চাহিদার তুলনায় কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে দেশে ১৪ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১২ হাজার ৩২৪ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ঘাটতির পরিমাণ ছিল প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য মো. জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করার চেষ্টা চলছে। রামপাল ও এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের ইউনিটগুলো উৎপাদনে ফিরলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের মজুত কমে আসা এবং বড় অঙ্কের বকেয়া পাওনা বিদ্যুৎ খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া পাওনার পরিমাণ ৪৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বিদ্যুৎ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শিল্প ও কৃষি খাতে। গ্রামাঞ্চলে সেচব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় বোরো ধানের চাষ এবং মৎস্য খামারগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। শিল্প কারখানাগুলোতে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসায় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বরিশাল, বাগেরহাট, ময়মনসিংহ এবং খুলনা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অনিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে গেছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, আগামী মাসে চাহিদা আরও বাড়লে পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করা না গেলে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

এস এম/ ১৭ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language