সুদানের যুদ্ধ একুশ শতকের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকট: ইয়েভেট কুপার

লন্ডন, ১৫ এপ্রিল – গাজা বা ইউক্রেনের যুদ্ধের দিকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি থাকলেও সুদানের সংকট অনেকটাই উপেক্ষিত থেকে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপার। তিন বছর ধরে চলা সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ এর মধ্যে তীব্র লড়াইয়ে দেশটি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি ব্রিটেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সুদানের সংঘাত একুশ শতকের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকট এবং বিশ্বের উচিত এই দিকে অবিলম্বে নজর দেওয়া।
যুদ্ধের কারণে বর্তমানে তিন কোটি ত্রিশ লাখেরও বেশি মানুষ মানবিক সাহায্যের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রায় এক কোটি চল্লিশ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং লাখ লাখ শিশু মারাত্মক দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী এবং র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস এর মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়। জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ আল বুরহান এবং জেনারেল মোহাম্মদ হামদান দাগালোর নেতৃত্বাধীন দুই পক্ষের লড়াইয়ে দেশের সার্বিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সুদানের এই বাস্তুচ্যুতির ঘটনা বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ সংকট। উত্তর দারফুরের এল ফাশির এবং দক্ষিণ কর্দোফানের কাদুগলিসহ বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধে ব্যাপক মাত্রায় যৌন সহিংসতা, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা এবং কলেরা ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া এক বক্তব্যে কুপার জানান, বিশ্ব সম্প্রদায় সুদানের মানুষের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে এবং সেখানে এখনই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সাহায্য সংস্থাগুলোর মনোযোগ গাজা বা ইউক্রেনের তুলনায় সুদানে অনেক কম। চলতি বছরের প্রয়োজনীয় তহবিলের মাত্র ১৬ শতাংশ এখন পর্যন্ত সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। বার্লিনে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক এক বৈঠকে কুপার যুদ্ধরত পক্ষগুলোর প্রতি অবিলম্বে রক্তপাত বন্ধের আহ্বান জানান। এই যুদ্ধ শুধু সুদানের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং চাদ, দক্ষিণ সুদান এবং মিশরের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতেও গভীর নিরাপত্তা ও শরণার্থী সংকট তৈরি করেছে। সংঘাত তৃতীয় বছরে প্রবেশ করায় দেশটিতে দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনা জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এস এম/ ১৫ এপ্রিল ২০২৬









