দক্ষিণ এশিয়া

যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানাল ভারত, পাকিস্তানের মধ্যস্থতা নিয়ে নীরবতা

নয়াদিল্লি, ১০ এপ্রিল – ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত। তবে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে পাকিস্তান যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তার কোনো উল্লেখ নেই। বিশ্বনেতারা পাকিস্তানের এই প্রচেষ্টার প্রশংসা করলেও ভারত বিষয়টিকে এড়িয়ে গেছে এবং ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আলোচনা নিয়েও নীরবতা পালন করেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় এবং আশা করে এটি পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে। এছাড়া বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ, বাণিজ্য ব্যবস্থা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে স্বাভাবিকতা ফিরে আসার আশাও ব্যক্ত করা হয়েছে।

এদিকে পাকিস্তান যখন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল, তখন থেকেই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দেশের অভ্যন্তরে সমালোচনার মুখে পড়ে। বিরোধী দলগুলো একে ভারতের জন্য বড় মাপের কূটনৈতিক আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিরোধী নেতাদের জানিয়েছেন, ভারত কোনো মধ্যস্থতাকারী দেশ হতে চায় না।

সরকার নীরব থাকলেও ভারতের বিরোধী নেতা, সাংবাদিক ও বিশ্লেষকরা পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করে নরেন্দ্র মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করছেন। কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভির মতে, পাকিস্তানের ভূমিকাটি আসলে ভারতের পালন করা উচিত ছিল।

অন্যদিকে, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব নিরুপমা মেনন রাও মনে করেন, পাকিস্তান এখানে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে একটি সংকীর্ণ কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি ভারতের অবস্থান আরও স্পষ্ট করার ওপর জোর দিয়েছেন।

বিশ্লেষক অশোক সোয়াইন এই যুদ্ধবিরতিকে ইরানের বিজয় এবং পাকিস্তানের জন্য সম্মানজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, পাকিস্তান শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নয়, চীনেরও আস্থা অর্জন করেছে এবং মোদির কূটনীতি ভারতকেই বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। অভিনব সিংয়ের মতো বিশ্লেষকরাও পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে পাকিস্তানের ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন।

সাংবাদিক অঞ্জনা শঙ্কর ও অঙ্কুর ভারদ্বাজের মতে, পাকিস্তানের এই সাফল্যকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। তাদের দাবি, চরম উত্তেজনার মধ্যেও পাকিস্তান যেভাবে কূটনৈতিক পথ খোলা রেখেছিল, তা ভারতের জন্য গভীর আত্মসমালোচনার বিষয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিরতির ফলে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় সাত বছরের মধ্যে প্রথমবার ইরানের তেল ভারতে পৌঁছাতে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে এই কূটনৈতিক সমীকরণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সাফল্যের কথা তুলে ধরেছেন।

এনএন/ ১০ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language