সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে হাজার হাজার পাকিস্তানি শিয়া মুসলিমকে বহিষ্কারের অভিযোগ

ইসলামাবাদ, ২৫ মে – সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সম্প্রতি বিপুল সংখ্যক পাকিস্তানি শিয়া মুসলিমকে বহিষ্কারের অভিযোগ উঠেছে। যার ফলে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার প্রবাসী দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে অন্তত সাত হাজার ৫০০ জন শিয়া ধর্মাবলম্বীকে গত কয়েক মাসে আমিরাত থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফেরত আসা ব্যক্তিদের দাবি তাদের বছরের পর বছর ধরে জমানো সঞ্চয় বা ব্যক্তিগত মালামাল সাথে নিয়ে আসার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই গণবহিষ্কারের ঘটনাকে গভীর উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
অভিযোগ রয়েছে যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর নজরদারি ও কড়াকড়ি বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন যে তাদের হঠাৎ করে আটক করে কোনো নোটিশ ছাড়াই সরাসরি বিমানবন্দরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে দেশটিতে নিয়মের কোনো বিচ্যুতি ঘটলে নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বিদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানো হয়।
তারা একে ধর্মীয় বা গোষ্ঠীগত কোনো বৈষম্য হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যদিও পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ কিছু কর্মকর্তা পর্দার আড়ালে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী প্রবাসীদের অনেকে দুবাইয়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক বা চাকরিক্ষেত্রে কর্মরত ছিলেন। হঠাৎ করে কর্মসংস্থান হারানো এবং সঞ্চিত অর্থ ছাড়া শূন্য হাতে দেশে ফেরায় তারা চরম অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হয়েছেন।
পাকিস্তানের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ শিয়া সম্প্রদায়ের এবং তাদের উপার্জিত রেমিট্যান্স দেশটির অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জোরালো পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
এস এম/ ২৫ মে ২০২৬









