ইসরায়েলকে ‘অবৈধ রাষ্ট্র’ আখ্যা দিয়ে মুসলিম বিশ্বকে এক হওয়ার ডাক পাকিস্তানের

ইসলামাবাদ, ৯ আগস্ট – সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইসরায়েলকে ‘অবৈধ রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। গত শনিবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইসরায়েলকে পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি এই ইহুদি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্ব মুসলিমকে একটি ঐক্যবদ্ধ সামরিক ফ্রন্ট বা জোট গঠনের জোর আহ্বান জানিয়েছেন। খাজা আসিফ বলেন ইসরায়েলের প্রেক্ষাপটে সমস্ত মুসলিম দেশকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ১৯৪০-এর দশকের বালফোর ঘোষণার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন ইসরায়েল একটি অবৈধ রাষ্ট্র এবং এটি এই অঞ্চলের যেকোনো দেশের জন্যই সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঘোষণার মাধ্যমেই পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল। পাকিস্তানের এই মন্ত্রী এর আগেও ইসরায়েলকে ‘মানবজাতির জন্য অভিশাপ’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি জানান ইসরায়েলের ক্ষমতায় কে এলো তাতে পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হবে না।
ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাদের বৈরী মনোভাব এবং ইসলামবিদ্বেষী মানসিকতা দূর হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যতক্ষণ না ফিলিস্তিন সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান হচ্ছে ততক্ষণ পুরো ইসলামিক বিশ্বকে এক হয়ে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।
১৯৬৭ সালের আগের সীমানা অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেওয়ার নীতিতে অটল রয়েছে ইসলামাবাদ। অন্যদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন তুরস্ক পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি কার্যত ন্যাটোর অনুচ্ছেদ-৫-এর মতো একটি যৌথ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।
অর্থাৎ এই তিন দেশের যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে তা সব দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। এই জোটের প্রধান সচিবালয় থাকবে সৌদি আরবে এবং ভবিষ্যতে মিসরও এই জোটে যোগ দিতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। প্রায় দুই বছর আট মাসের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা এই জোটটি ন্যাটোর বিকল্প নয় এবং আঞ্চলিক অন্যান্য দেশের জন্যও এটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে বলে আঙ্কারা নিশ্চিত করেছে।
এস এম/ ৯ আগস্ট ২০২৬









