মধ্যপ্রাচ্য

সিআইএর তথ্যে ইসরায়েলি হামলায় খামেনি নিহত, দাবি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের

তেহরান, ১ মার্চ – ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অবস্থান শনাক্ত করে সেই তথ্য ইসরায়েলকে জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। ওই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই হামলার সময়সূচি পরিবর্তন করে দিনের আলোতে তেহরানে হামলা চালায় ইসরায়েল।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে শনিবার সকালে চালানো এই হামলায় খামেনিসহ ইরানের ডজনখানেক শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি জঙ্গিবিমান খামেনির অবস্থান লক্ষ্য করে অন্তত ৩০টি বোমা নিক্ষেপ করে এবং তাতে পুরো সরকারি কমপাউন্ডটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

সিআইএ গত কয়েক মাস ধরেই খামেনির গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল এবং তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য সংগ্রহ করছিল। এর ধারাবাহিকতায় মার্কিন গোয়েন্দারা জানতে পারেন যে শনিবার সকালে তেহরানের প্রেসিডেন্সি কার্যালয়, সর্বোচ্চ নেতার দপ্তর এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয়ে তিনটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এই বৈঠকের তথ্য পাওয়ার পর ইসরায়েল তাদের রাতের অন্ধকারে হামলার মূল পরিকল্পনা বাতিল করে দিনের বেলায় আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়। ইসরায়েল সময় সকাল ৬টা এবং তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে এই হামলা চালানো হয়। হামলার আকস্মিকতায় ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে।

ইসরায়েলের সাবেক সামরিক গোয়েন্দা প্রধান আমোস ইয়াদলিনের মতে দিনের আলোয় এই হামলা কৌশলগতভাবে প্রতিপক্ষকে বিস্মিত করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে যে হামলায় খামেনি ছাড়াও দেশটির সামরিক পরিষদের প্রধান আলি শামখানি এবং বিপ্লবী গার্ড কোরের কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহও ওই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমস ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর বরাতে জানিয়েছে যে তেহরানের একাধিক স্থানে সমন্বিত এই হামলা চালানো হয় এবং এতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বড় একটি অংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে যুদ্ধের প্রস্তুতির মধ্যেও খামেনির মতো সুরক্ষিত ব্যক্তিকে হত্যা করা মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা ব্যবস্থার গভীর সক্ষমতারই প্রমাণ।

এনএন/ ১ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language