পশ্চিমবঙ্গ

পশ্চিমবঙ্গ বিজেপিতে ক্ষোভ-বিক্ষোভ চরমে

কলকাতা,০৯ জুন- সদ্য শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে হেরে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি এখন বেসামাল। ৭৭টি আসন পেয়েও দলের ভিতর ক্ষোভ-বিক্ষোভ চরমে। ভোটের আগে যারা হুড়মুড়িয়ে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এসেছিলেন, তাদের অনেকেই আবার ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে নিয়মিত খবর প্রকাশিত হচ্ছে ভারতের গণমাধ্যমগুলোতে।

তৃণমূলের সদ্য সাধারণ সম্পাদক হওয়া অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও দাবি করেছেন, নেতারা তো বটেই, প্রচুর বিধায়ক তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এই দাবিকে বিজেপির উপর চাপ সৃষ্টির জন্য অভিষেকের কৌশল বলা যেতে পারে, কিন্তু বিজেপির অন্দরের বিরোধকে উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। নিয়মিত নেতারা প্রকাশ্যে ঝগড়া করছেন। একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন।

রাজ্যের বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারীর দিল্লিতে অমিত শাহয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে সাবেক মন্ত্রী ও ভোটের আগে বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধ দেখা দিয়েছে।

সাবেক বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত ভোটের আগে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গেছেন, প্রার্থী হয়েছেন এবং হেরেছেন। তিনি বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত কোনো মুখ তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি।

তিনি বলেছেন, গত দশ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত মুখ। আমরা তার বিরুদ্ধে কোনো মুখ তুলে ধরতে পারিনি। তিনি মনে করেন, নেতিবাচক ভোটে নির্বাচন জেতা যায় না। ইতিবাচক দিকটা তুলে ধরতে হয়।

দিলীপ ঘোষ মঙ্গলবার রাজ্য কমিটির বৈঠক ডেকেছিলেন। বৈঠকের পর শুভেন্দু অধিকারীর দিল্লি যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুভেন্দু কেন দিল্লি গেছেন তা তার জানা নেই। যারা ডেকেছেন তারা জানবেন। আর শুভেন্দু বিরোধী নেতা। তাই তার অনেক কাজ থাকতে পারে।

এ ব্যাপারে শুভেন্দু বলেছেন, তিনি দলের সংগঠন সচিবকে জানিয়ে এসেছিলেন।

বৈঠকে মুকুল রায়ও আসেননি। তিনি বলেছেন, বৈঠকের কথা জানতেন না। তিনি নিজের যন্ত্রণা নিয়ে আছেন। আবার দিলীপ ঘোষের দাবি, বৈঠকের কথা তাকে জানানো হয়েছিল। তিনি আসার চেষ্টা করবেন বলেছিলেন।

দলের এই কোন্দল থামাতে রাজ্য বিজেপি একটা শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি গঠন করেছে। দিলীপ ঘোষ বৈঠকে বলেছেন, দলবিরোধী মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না।দলবিরোধী মন্তব্য করলেই তা শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি দেখবে।

এদিকে বিজেপি নেতাদের মধ্যে বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বিজেপি নেতাদের উচিত, নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিরোধ মিটিয়ে নেওয়া। দিল্লিতে শুভেন্দু বলেছিলেন, তিনি অভিষেকের কোনো কথার জবাব দেবেন না। কারণ, অভিষেক তার পর্যায়ের নেতা নন। তার জবাবে অভিষেক বলেছেন, শুভেন্দুর পরিবারের বিরুদ্ধে ত্রিপল চুরির অভিযোগ রয়েছে। তিনিও ওই পর্যায়ে নামতে পারবেন না।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর
এস সি/০৯ জুন

Back to top button
🌐 Read in Your Language