কক্সবাজার

হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, এখনো নিখোঁজ ২

কক্সবাজার, ২১ অক্টোবর – কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন মনোরম হিমছড়ি সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে এসে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন একদল পর্যটক। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে গোসল করতে নেমে ডুবে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ জন পর্যটক। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২ জন। নিমিষেই আনন্দের ছুটি রূপ নিয়েছে করুণ বিষাদে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে হিমছড়ি এলাকার ‘মারিনা রিসোর্ট’ সংলগ্ন সৈকতে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধারে সমুদ্রে একযোগে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও স্থানীয় পুলিশ।

ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার অভিযান

ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বিকেলে কয়েকজন পর্যটক একসাথে হিমছড়ি সমুদ্রসৈকতে নেমে সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে গোসল করছিলেন। একপর্যায়ে সমুদ্রের তীব্র স্রোত ও গোপন টানে (Rip Current) ভাসিয়ে নিয়ে যায় তাঁদের।

সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উদ্ধারকারী দল। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “আমরা ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে দুই পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করি। অপর একজনকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন। এখনো নিখোঁজ থাকা অপর দুই পর্যটকের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে।”

নিহতদের পরিচয় শনাক্তে প্রক্রিয়া ও বর্তমান অবস্থা

তাৎক্ষণিকভাবে নিহত কিংবা নিখোঁজ পর্যটকদের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকৃত ৩ জনের মরদেহ বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং স্বজনদের সাথে যোগাযোগ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ও পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

হিমছড়ি সৈকত ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি

কক্সবাজারের মূল লাবণী বা সুগন্ধা পয়েন্টের তুলনায় হিমছড়ি ও মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন সৈকতগুলো তুলনামূলকভাবে নির্জন ও গভীর। বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের মতে:

লুকায়িত খাদের ঝুঁকি: হিমছড়ি এলাকার সৈকতে পানির নিচে হঠাৎ তৈরি হওয়া গভীর খাদ এবং তীব্র টান প্রায়শই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

লাইফগার্ড ও নজরদারির অভাব: প্রধান সৈকতগুলোর মতো মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন এসব এলাকায় নিয়মিত লাইফগার্ড বা পর্যাপ্ত জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থার ঘাটতি থাকায় দুর্ঘটনাকবলিতরা দ্রুত সহায়তা পান না।

সচেতনতার ঘাটতি: সাগরের জোয়ার-ভাটার সময় সতর্কসংকেত না মেনে গভীর পানিতে নামাই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

উপকূলীয় এলাকায় বর্তমানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উদ্ধারকারীরা বাকি দুই নিখোঁজ পর্যটককে জীবিত বা মৃত উদ্ধার না করা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এনএন/ ২১ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language