নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহাসড়ক অবরোধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া,২৯ অক্টোবর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ও বিজয়নগর উপজেলার একটি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল বাজারে চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন রামরাইল ইউনিয়নের বাসিন্দারা। একই সময়ে সুলতানপুর ইউনিয়নেও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে রামরাইল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে কয়েক শ বাসিন্দা রামরাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হন। তারা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে সড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল, সুলতানপুর ও বাসুদেব ইউনিয়ন এবং বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন নিয়ে নতুন একটি উপজেলা গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, জেলা বিএনপির নেতা কবীর আহমেদ ভূঁইয়া এই পরিকল্পনা করেছেন। বক্তারা এ উদ্যোগকে ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানান।
কর্মসূচিতে রামরাইল ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান সোহাগ বলেন, বাসুদেব, রামরাইল ও সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রাণকেন্দ্র রামরাইল ইউনিয়ন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কবীর আহমেদ ভূঁইয়াকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই, আপনি পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে যে ষড়যন্ত্রে নেমেছেন, তা সফল হবে না। সর্বস্তরের জনগণ আজ মাঠে নেমে গেছে। আমাদের দাবি একটাই—আমরা কখনো এই নতুন উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হব না।’
তরুণ আইনজীবী মুকুল চৌধুরী বলেন, তিনটি উপজেলা থেকে ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্যোগের প্রতিবাদে তারা আন্দোলন করছেন। এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। চার ইউনিয়নের বাসিন্দারা যেকোনো মূল্যে এ উদ্যোগ প্রতিহত করবেন বলেও জানান তিনি।
মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্থানীয় বাসিন্দা ইমন হাজারী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল ও ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অভিলাষ পূরণের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তাঁর অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহল স্থানীয় প্রশাসনের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলাকে বিভক্ত করতে চাইছে। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা ধরনের অপপ্রচারও ছড়ানো হচ্ছে।
ইমন হাজারী আরও বলেন, রামরাইল ও সুলতানপুর ইউনিয়নকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা থেকে অন্য কোনো থানার অধীনে নেওয়ার প্রস্তাব তারা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। সদর উপজেলা তাদের পরিচয় ও অহংকার।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন রামরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান সেলিম, বিএনপি নেতা সাদেকুর রহমান, আল আমিন, শাহগীর আলম, বাবুল খন্দকার ও হানিফসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
এস এম/ ২৯ অক্টোবর ২০২৬







