মধ্যপ্রাচ্য

গাজায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় প্রাণ গেল আরেক সাংবাদিকের, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬৩!

জেরুজালেম, ০১ অক্টোবর, – গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর আগ্রাসন ও নির্বিচার রক্তপাত যেন থামার নামই নিচ্ছে না। যুদ্ধের ভয়াবহ রূপ আর মানবাধিকার লঙ্ঘনের নগ্ন ছবি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার খেসারত দিতে গিয়ে আবারও প্রাণ দিতে হলো পেশাগত দায়িত্ব পালনরত এক ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে। বুধবার ইসরায়েলি বাহিনীর সরাসরি ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন মুহাম্মদ আবদেল আজিজ আল-নাজ্জার নামের আরও এক গণমাধ্যমকর্মী।

সত্য চেপে রাখার সুপরিকল্পিত ছক?

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, মুহাম্মদ আবদেল আজিজের এই মর্মান্তিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৬৩ জনে!

মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি বাহিনীর এই বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের গুরুতর অভিযোগ—গাজায় চলা গণহত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ এবং বেসামরিক মানুষের ওপর নির্যাতনের সত্য চিত্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে উন্মোচিত হওয়া ঠেকাতেই বেছে বেছে সাংবাদিকদের সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হচ্ছে।

এই পরিকল্পিত সাংবাদিক নিধন বন্ধে সোচ্চার হতে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন, আরব সাংবাদিক ফেডারেশনসহ বিশ্বের সমস্ত গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাকে অবিলম্বে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, এসব হত্যাকাণ্ডের আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে দায়ীদের দ্রুত আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর দাবি জানিয়েছে তারা।

কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি, বাস্তবে ধ্বংসস্তূপ

প্রতিবেদনে এক চরম উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে—২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা। তবে আন্তর্জাতিক সমঝোতা ও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী চুক্তি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে উপত্যকাজুড়ে তাদের সামরিক অভিযান ও টার্গেটেড কিলিং চালিয়ে যাচ্ছে।

পরিসংখ্যানের আয়নায় গাজার বীভৎস দৃশ্যপট:

  • মোট প্রাণহানি: ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবরের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন।
  • আহতের সংখ্যা: অন্তত ১ লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি মানুষ পঙ্গুত্ব ও মারাত্মক জখম নিয়ে কাটাচ্ছেন মানবেতর জীবন।
  • অবকাঠামোগত বিপর্যয়: অবিরাম বোমাবর্ষণে অবরুদ্ধ গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ও ঘরবাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

বিশ্ব বিবেকের সামনে এভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত ও একটি পুরো জাতিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠছে বিশ্বজুড়ে।

এনএন/ ০১ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language