বেন-গভিরের ইব্রাহিমি মসজিদে প্রবেশ, ফিলিস্তিনিদের জন্য মসজিদ বন্ধ

গাজা,২৯ সেপ্টেম্বর- ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী উগ্রপন্থী ইতামার বেন-গভির অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদে প্রবেশ করেছেন।
ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব সুক্কোটকে কেন্দ্র করে হেবরন ও অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের চলাচল ও ধর্মীয় কার্যক্রমে ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপের মধ্যেই তিনি মসজিদে প্রবেশ করেন।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সোমবার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের জন্য ইব্রাহিমি মসজিদ বন্ধ করে দেয়। সুক্কোট উৎসব উপলক্ষে বুধবার পর্যন্ত মসজিদটি ফিলিস্তিনিদের প্রবেশের জন্য বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে। একই সময়ে মসজিদের প্রবেশপথ, সামরিক চেকপয়েন্ট ও ইলেকট্রনিক গেটগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
সুক্কোট উপলক্ষে হেবরনের পুরোনো শহরেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে অনেক বাসিন্দার চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইব্রাহিমি মসজিদে ইহুদি ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও বসতিস্থাপনকারীদের প্রবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফিলিস্তিনি ধর্মীয় কর্মকর্তারা মসজিদ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাকে মুসলমানদের উপাসনার অধিকার এবং মসজিদের পবিত্রতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
ইব্রাহিমি মসজিদ মুসলিম ও ইহুদি—উভয় সম্প্রদায়ের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। ১৯৯৪ সালে এক ইসরায়েলি ইহুদির হামলায় ২৯ ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর মসজিদটি মুসলিম ও ইহুদি উপাসকদের জন্য পৃথক অংশে ভাগ করা হয়। এরপর থেকে ইহুদি ধর্মীয় উৎসবের সময় মুসলিমদের প্রবেশে বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়ে আসছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মসজিদটিকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। চলতি বছরের জুনে ইসরায়েল হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদে পরিকল্পনা ও নির্মাণসংক্রান্ত ক্ষমতা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নেয়। ১৯৯৭ সালের হেবরন চুক্তির অধীনে হেবরন শহরের পরিকল্পনা ও নির্মাণের দায়িত্ব ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে ছিল।
এর আগে সেপ্টেম্বরেও ইহুদি ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে ইব্রাহিমি মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তখনও মসজিদের আশপাশে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো, প্রবেশপথ বন্ধ করা এবং পুরোনো শহরের বিভিন্ন এলাকায় চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনা ঘটে।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এ ধরনের বিধিনিষেধ শুধু ধর্মীয় উপাসনায় বাধা সৃষ্টি করছে না, হেবরনের পুরোনো শহরের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও চলাচলেও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সাধারণত এসব পদক্ষেপকে নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা হিসেবে ব্যাখ্যা করে থাকে।
সুক্কোট উৎসবকে ঘিরে বেন-গভিরের ইব্রাহিমি মসজিদে প্রবেশ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনায় হেবরনের ধর্মীয় স্থান ও পুরোনো শহরকে ঘিরে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও সামনে এসেছে।
এস এম/ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬







