উত্তর আমেরিকা

মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের নীতি নিয়ে চাপে রিপাবলিকানরা

মধ্যবর্তী নির্বাচন

ওয়াশিংটন, ২৫ সেপ্টেম্বর- আমেরিকার আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা বুঝতে খুব বেশি জটিলতার প্রয়োজন নেই। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকান জনগণ দেশের সংকট কাটাতে কিছু স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট পদক্ষেপ আশা করছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান ও নীতিগুলো সাধারণ ভোটারদের সেই প্রত্যাশার বিপরীত দিকে যাচ্ছে। এতে পুরো দলই গভীর রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়েছে।

দেশটির সাধারণ মানুষ এখন অর্থনৈতিক স্বস্তির জন্য অপেক্ষা করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি পণ্যের বাড়তি দাম এবং আবাসন খাতের অত্যধিক খরচ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় চাপ তৈরি করেছে। এর সঙ্গে বন্ধকী ঋণের সুদের হার ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন যেখানে কথিত ‘অর্থনৈতিক স্বর্ণযুগ’ ফিরিয়ে আনার দাবি করছে এবং খাদ্যপণ্যের দাম কমার বিষয়ে পরিসংখ্যান তুলে ধরছে, বাস্তব পরিস্থিতি সেখানে ভিন্ন। এমনকি বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের জন্য ট্রাম্প এখনও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে দায়ী করছেন। তবে মার্কিন জনগণ ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিতে আস্থা রাখতে পারছে না। জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৭ শতাংশ আমেরিকান প্রেসিডেন্টের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে সমর্থন করছেন। একই সঙ্গে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার অর্থনীতির এই অস্থির অবস্থাকে আসন্ন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বিষয় হিসেবে দেখছেন।

অর্থনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও প্রশাসনের অবস্থান জনমতের সঙ্গে মিলছে না। যুদ্ধের কারণে গ্যাস ও ডিজেলের দাম বাড়া এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন নাগরিকদের একটি বড় অংশ ক্ষোভ প্রকাশ করছে। ইরানের সঙ্গে চলমান দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত নিয়েও রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ বাড়ছে। প্রায় সাত মাসে পড়তে যাওয়া এই যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার জন্য ট্রাম্পের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে বলে দেশের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ মনে করছেন না। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ট্রাম্পের বক্তব্যও এই অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। সেখানে যুদ্ধ বন্ধের কার্যকরদের সতর্কবার্তার পর অন্তত ৭০ শতাংশ আমেরিকান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর কঠোর সরকারি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানাচ্ছেন। কিন্তু ট্রাম্প এখানেও ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন এবং এআইয়ের বর্তমান অনিয়ন্ত্রিত অবস্থানকেই সমর্থন কোনো রূপরেখা না দিয়ে তিনি বিভ্রান্তিকর মন্তব্যই করে গেছেন। জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৬ শতাংশ আমেরিকান ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিষয়ে ট্রাম্পের পদক্ষেপ অনুমোদন করেন।

প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার নিয়েও নাগরিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা এবং চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও টেক-প্রধানদের সতর্কবার্তার পর অন্তত ৭০ শতাংশ আমেরিকান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর কঠোর সরকারি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানাচ্ছেন। কিন্তু ট্রাম্প এখানেও ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন এবং এআইয়ের বর্তমান অনিয়ন্ত্রিত অবস্থানকেই সমর্থন করছেন। ফলে প্রযুক্তি খাত নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ নাগরিকদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন রাষ্ট্রপ্রধানের সব সময় জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি নয় এবং নীতির স্বার্থে কখনো কখনো কঠোর অবস্থানও নিতে হয়। তবে ট্রাম্পের বর্তমান কৌশল সেই স্বাভাবিক রাজনৈতিক সমীকরণকে ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে যেসব মূল প্রতিশ্রুতি—যেমন জিনিসপত্রের দাম কমানো এবং নতুন যুদ্ধে না জড়ানো—তাঁকে ক্ষমতায় আসতে সহায়তা করেছিল, বর্তমানে তিনি সেসব অবস্থান থেকে সরে গেছেন। শুধু সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে ট্রাম্প তাঁর নীতি ধরে রেখেছেন। তবে কঠোর গণ-বহিষ্কারের পদক্ষেপগুলো দোদুল্যমান ও মডারেট ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করছে।

এমন পরিস্থিতি রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নীতির কারণে ডেমোক্রেটিক প্রার্থীরা জোরালো প্রচারের সুযোগ পাচ্ছেন। মেইন ও জর্জিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক প্রার্থীরা ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি ও যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার করার কৌশল নিয়েছেন। তবে ডেমোক্রেটদের জন্যও পরিস্থিতি পুরোপুরি সহজ নয়। রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্রেটদের প্রতি জনসমর্থন ৮ পয়েন্ট বেশি থাকলেও সাধারণ ভোটারদের আস্থা পুরোপুরি ফিরে পেতে দলটি এখনও সফল হয়নি। দলের ভেতরের প্রগতিশীল ও মডারেট ধারার পার্থক্য ভবিষ্যতের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বাধা তৈরি করতে পারে।

এস এম/ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

Back to top button
🌐 Read in Your Language