উত্তর আমেরিকা

ফিলিস্তিনিদের জন্য ১০ কোটি ডলারের সহায়তা ঘোষণা কানাডার প্রধানমন্ত্রীর

কানাডার প্রধানমন্ত্রী

অটোয়া, ২৪ সেপ্টেম্বর- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিনের বিপর্যস্ত ও নিপীড়িত মানুষের জন্য ১০০ মিলিয়ন বা ১০ কোটি মার্কিন ডলারের বড় সামরিক-মানবিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে বৈশ্বিক এই শীর্ষ সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে তিনি এই অর্থসহায়তার ঘোষণা দেন।

ঘোষিত অনুদানের মধ্যে ৮০ মিলিয়ন ডলার সরাসরি মানবিক ত্রাণে এবং ২০ মিলিয়ন ডলার শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে ব্যয় করা হবে। সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি গাজার মানবিক ট্র্যাজেডি এবং হামাসের কারণে ইসরায়েলিদের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি সতর্ক করেন, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা পুরোপুরি অর্থহীন হয়ে পড়বে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলার সময় কানাডার প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। মূলত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সল বিন ফারহানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে নতুন এই অর্থসহায়তার ঘোষণা দেন কার্নি। চার দেশের উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের স্থায়ী সমাধানে দ্বি-রাষ্ট্র তত্ত্ব বাস্তবায়ন এবং আঞ্চলিক যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন-সমর্থিত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাব কার্যকর করার রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

কানাডার এই বড় ঘোষণার পেছনে সম্প্রতি নেওয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট রয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই ইসরায়েলের অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্যিক লেনদেন নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কানাডা, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য একমত হয়। পূর্ব জেরুজালেমের কাছের সংবেদনশীল ই-ওয়ান এলাকায় ইসরায়েলের বিতর্কিত নতুন বসতি স্থাপন প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং সাম্প্রতিক সময়ে চরমপন্থী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের নজিরবিহীন সহিংসতাকে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছিল দেশগুলো। মঙ্গলবারের বৈঠকে মার্ক কার্নি এই বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত আবারও তুলে ধরে বলেন, দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতেই তাদের এমন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।

বৈঠকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বিশ্বনেতাদের শুধু মুখে সমর্থন না জানিয়ে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিনের সমর্থন যদি বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর করা না যায়, তাহলে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিন্দুমাত্র আস্থা থাকবে না। ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল—দুই স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন ও আশা কোনোভাবেই নিভে যেতে দেওয়া যাবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত বছর কানাডা আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসে। এর আগে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের নেতৃত্বের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পরই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে অবস্থান ছিল অটোয়ার। তৎকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী কার্নি বলেছিলেন, ধারাবাহিক বসতি সম্প্রসারণ এবং গাজায় চলমান সামরিক অভিযানের কারণে শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ফিলিস্তিনিদের জন্য কানাডার পক্ষ থেকে বড় অঙ্কের অর্থসহায়তার ঘোষণা এবারই প্রথম নয়। চলতি বছরের জুনে পশ্চিম তীর ও গাজায় জরুরি খাদ্যসহায়তা, চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য মানবিক চাহিদা পূরণে ১০০ মিলিয়ন ডলারের একটি আন্তর্জাতিক তহবিল ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছিল শান্তি রক্ষা ও স্থিতিশীলতা জোরদারের প্রচেষ্টায়। মঙ্গলবার ঘোষিত নতুন ১০০ মিলিয়ন ডলারের এই বরাদ্দ ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ও দুর্গত মানুষের জীবনে সাময়িক স্বস্তি আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এস এম/ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

Back to top button
🌐 Read in Your Language