ইরান সংকটে আইএমইইসি করিডোরে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন জানালেন ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ২৩ সেপ্টেম্বর- ইরান সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক অস্থিরতা কমাতে নতুন ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলে (জিসিসি) অনুষ্ঠিত বহুপাক্ষিক বৈঠকে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি ‘ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোর’ বা ‘আইএমইইসি’ প্রকল্পের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত সমর্থনের কথা আবারও জানান। ট্রাম্প দাবি করেন, বাণিজ্যিক নৌপথে ইরানের ধারাবাহিক বাধা সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার জবাবে এই সংযোগ করিডোরই সবচেয়ে কার্যকর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সমাধান হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বক্তব্যে বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা এবং সামুদ্রিক পথে দেশটির প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোকে বিকল্প পথে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। তেহরানের নিয়ন্ত্রণাধীন কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ চেকপয়েন্টগুলো এড়িয়ে নিরাপদ উপায়ে তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনে আইএমইইসি করিডোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাইপলাইন বা বিকল্প যেকোনো মাধ্যম ব্যবহার করে জ্বালানি সরবরাহ চালু রাখতে ট্রাম্পের প্রশাসন এই বড় বহুমাত্রিক উদ্যোগে পূর্ণ অংশীদারত্বের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে যৌথ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে এই অর্থনৈতিক করিডোর প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। মূলত দক্ষিণ এশিয়া, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইউরোপের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপনই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। পুরো পরিকল্পনাটি দুটি প্রধান রুটে ভাগ করা হয়েছে। পূর্ব রুটটি ভারতকে উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করবে এবং উত্তর রুটটি উপসাগরকে ইউরোপের সঙ্গে সংযুক্ত করবে। এই করিডোরে থাকবে সমন্বিত রেললাইন, নতুন শিপিং নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎ ও ডিজিটাল যোগাযোগের ক্যাবল লাইন এবং পরিবেশবান্ধব গ্রিন হাইড্রোজেন পরিবহনের পাইপলাইন। এর ফলে ভারত ও ইউরোপের মধ্যকার বাণিজ্য সময় অর্ধেকেরও বেশি কমে যাবে এবং চীন ঘোষিত ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই)-এর একটি শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক বিকল্প গড়ে উঠবে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দেন। তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে দাবি করে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে একসময় অনেক দেরি হয়ে যাবে এবং একটি জাতি হিসেবে তাদের টিকে থাকার কোনো সুযোগই থাকবে না। একই সঙ্গে ট্রাম্প গত বছরের মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর প্রসঙ্গ তুলে দাবি করেন, ওই অভিযানের মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ইতোমধ্যেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা সম্ভব হয়েছে।
এস এম/ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬







