প্রবাসী মুসলিমদের নিজস্ব সংস্কৃতি ধরে রাখার আহ্বান এরদোয়ানের

আঙ্কারা,২৪ সেপ্টেম্বর- যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক বর্ণাঢ্য সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান প্রবাসে বসবাসরত মুসলিমদের ওপর সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, বিশ্বজুড়ে মুসলিম সমাজকে কোনোভাবেই তাদের নিজস্ব ভাষা, মৌলিক সংস্কৃতি ও শিকড় ভুলতে বাধ্য করা যাবে না। তারা নিজেদের পরিচয় অক্ষুণ্ণ রেখে যে দেশে বসবাস করছেন, সেই দেশের মূলধারার সমাজের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মিশে যাবেন বা অন্তর্ভুক্ত হবেন (ইন্টিগ্রেশন)। এরদোয়ান বলেন, মুসলিম সম্প্রদায় সামাজিক ও নাগরিক মূলধারায় যুক্ত হওয়ার বিষয়ে পুরোপুরি সম্মত হলেও জোর করে নিজস্ব সংস্কৃতি বিলীন করার যেকোনো প্রচেষ্টা তারা সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে।
নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক গথাম হলে তুর্কি-আমেরিকান ন্যাশনাল স্টিয়ারিং কমিটিসহ (টিএএসসি) একাধিক স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ও মুসলিম নাগরিক সংগঠনের উদ্যোগে এই সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলোতে মুসলমানদের বর্তমান সংকটজনক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন তুরস্কের রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে মুসলিমদের নিজস্ব সত্তা বজায় রাখার সুযোগ না দিয়ে বরং তাদের স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে জোর করে মিলিয়ে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। নিজ মাতৃভাষায় কথা বলা বা নিজস্ব ঐতিহ্য চর্চা করা কোনো সমাজেই নাগরিক হিসেবে মানিয়ে নেওয়ার পথে বাধা হতে পারে না—এই বিষয়টিও তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।
বক্তৃতায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট প্রবাসী সমাজকে স্বাগতিক দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প-সংস্কৃতিতে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলার আহ্বান জানান। ব্যক্তিপর্যায়ের সাফল্যগুলো যেন শুধু ব্যক্তিগত অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং সেগুলোকে স্থায়ী প্রতিষ্ঠান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সামাজিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায়, সেই লক্ষ্য অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি। বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা বর্ণবাদ, ইসলামবিদ্বেষ ও বিদেশাতঙ্ক প্রতিরোধে প্রবাসী মুসলিম সম্প্রদায়কে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রবাসীদের নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলে দলে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের মতামত ও রাজনৈতিক অবস্থান নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন। নিজেদের সামাজিক ও নাগরিক অধিকার সুসংহত করার জন্য প্রবাসী সব নাগরিকের ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক ঐক্য বজায় রাখার ওপর জোর দেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। এরদোয়ান আশ্বাস দিয়ে বলেন, আঙ্কারা যেকোনো পরিস্থিতিতে বিশ্বমঞ্চে ও প্রবাসে তুর্কি নাগরিকসহ সব মুসলিম সমাজের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
এস এম/ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬







