ইউরোপ

ইতালির স্কুলে বোরকা-হিজাব নিষেধাজ্ঞা ও বিদেশি শিক্ষার্থী সীমিত করার ঘোষণা মেলোনির

রোম, ২০ সেপ্টেম্বর – ইউরোপের রাজনীতিতে আবারও এক কঠোর পদক্ষেপের আভাস দিল ইতালির সরকার। দেশটির রাষ্ট্রীয় স্কুলগুলোতে হিজাব ও বোরকা পরার ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা আইনিভাবে সীমিত করার বৃহৎ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন সরকার।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দেশটির একটি জাতীয় যুব উৎসবে উপস্থিত হয়ে সরাসরি বক্তব্যে এই বিতর্কিত পরিকল্পনার ঘোষণা দেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী।

ইতালীয় শিশুরা যেন কোণঠাসা না হয়”: মেলোনির কঠোর অবস্থান

যুব উৎসবে দেওয়া বক্তব্যে নিজের জাতীয়তাবাদী অবস্থান স্পষ্ট করে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন:

সংখ্যালঘু বোধ প্রতিরোধের চেষ্টা: ইতালির নিজস্ব শ্রেণিকক্ষে স্থানীয় শিশুরা যেন নিজেদের সংখ্যালঘু বা কোণঠাসা মনে না করে, সে বিষয়টিকে তার সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

হিজাব ও বোরকা নিষিদ্ধের প্রস্তুতি: ইতালীয় স্কুলগুলোর ভেতর ধর্মীয় পোশাকের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে, যার অধীনে বোরকা ও হিজাব পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধের তালিকায় পড়বে।

অভিভাবকদের জন্য ভাষা শেখার বাধ্যবাধকতা: যেসব বিদেশি শিক্ষার্থীর ইতালীয় শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সমস্যা হবে, তাদের অভিভাবকদের জন্যও বাধ্যতামূলকভাবে ইতালীয় ভাষা শেখার নিয়ম চালু করা হবে।

আইনি কাঠামো ও নীতিমালার রূপরেখা

মেলোনি জানান, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিকে আইনি রূপ দিতে একটি নতুন কাঠামোগত খসড়া তৈরি করা হচ্ছে, যা শিগগিরই দেশের মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে।

শিক্ষার্থীর সংখ্যায় সীমা: প্রস্তাবিত এই নতুন নিয়মে প্রতিটি স্কুলের শ্রেণিকক্ষে সর্বোচ্চ কত শতাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবে, তার একটি স্পষ্ট আইনি সীমা (Cap) নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।

অস্পষ্ট শর্তাবলি: নীতিগতভাবে কঠোরতার কথা প্রকাশ করলেও, শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট অনুপাত ঠিক কতটা নির্ধারণ করা হবে, সে সম্পর্কে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

সামাজিক সংহতি নাকি জাতিগত বৈষম্য?

প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ডানপন্থী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও তথাকথিত ‘জাতীয় পরিচয়’ রক্ষার নামে বেশ কিছু কঠোর নীতি গ্রহণ করে আসছে। সরকারের মূল যুক্তি—অভিবাসী পরিবার ও শিশুদের দেশের মূলধারার ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে একীভূত করার জন্যই এই ব্যবস্থা।

তবে মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমন্বয়ের নামে মূলত ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব এবং অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে সামাজিকভাবে আরও বেশি প্রান্তিক করে ফেলার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। নতুন এই প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় পাস হলে তা ইউরোপীয় রাজনীতির অন্যান্য দেশের ওপরও প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এনএন/ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language