ট্রাম্প জুনিয়র ও বেটিনার বিয়ের পরের অনুষ্ঠান রুশ ধনকুবেরের অর্থায়নে

মস্কো, ১৭ সেপ্টেম্বর- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এবং তার স্ত্রী বেটিনা ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, গত মে মাসে তাদের বিয়ের পর ক্যারিবীয় অঞ্চলের একটি দ্বীপে আয়োজিত বিলাসবহুল উদ্যাপনের খরচ বহন করেছিলেন পুতিনের ঘনিষ্ঠ এক রুশ ধনকুবের।
অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম প্রোপাবলিকা জানিয়েছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা ওই ধনকুবের উমর ক্রেমলেভ বাহামাসের একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন দ্বীপে নবদম্পতি ও তাদের কয়েক ডজন অতিথির জন্য আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পেছনে কয়েক লাখ ডলার খরচ করেন। বিয়ের পরের দিন থেকে শুরু হওয়া এই আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের মধ্যে চোখধাঁধানো আতশবাজির প্রদর্শনীও ছিল, যার পুরো খরচ ক্রেমলেভ নিজেই বহন করেন।
বিষয়টি পরিষ্কার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেটিনা ট্রাম্প তার ইনস্টাগ্রাম পাতায় লিখেছেন, আমাদের প্রিয় বন্ধু উমর বিয়ের পর অত্যন্ত উদারভাবে দুই রাতের দুটি অসাধারণ উদ্যাপনের আয়োজন করেছিলেন। পোস্টের শেষে ‘ডন ও বেটিনা’ নামে স্বাক্ষর করে তিনি আরও লেখেন, এটি ছিল একজন বন্ধুর কাছ থেকে পাওয়া অত্যন্ত উদার বিয়ের উপহার, যার জন্য আমরা তখনও এবং এখনো অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।
তবে বিষয়টি মার্কিন রাজনীতিতে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্প পরিবারের একজন সদস্য, যিনি তার বাবার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরেই কয়েকশ কোটি ডলার আয় করেছেন এবং যার আয়ের একটি অংশ বিদেশি বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা থেকে এসেছে, তিনি কেন পুতিনের সঙ্গে এত ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একজন ব্যক্তির কাছ থেকে এমন উপহার নেবেন।
তবে পুরো ঘটনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মূল বিয়ে কিংবা পরবর্তী উদ্যাপনে উপস্থিত ছিলেন না। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিষয়টিকে হালকাভাবে নিয়ে তিনি বলেন, উমর কে, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই, আমি তার নামও আগে শুনিনি এবং সে ডন ও বেটিনার বিয়ের খরচ দেয়নি।
বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, তাদের বিয়ে হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি স্থানে এবং ভিন্ন দিনে; এটি ছিল তাদের সম্মানে আয়োজিত বিয়ের পরের একটি অনুষ্ঠান। আত্মপক্ষ সমর্থন করে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, এটি বড় কোনো ব্যাপার নয়! আমি ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম না।
অন্যদিকে, এই ঘটনা নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি রবার্ট গার্সিয়া, যিনি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের তদারকি কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ইউক্রেন সরকার যে ক্রেমলেভের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, সেই ক্রেমলেভ প্রেসিডেন্টের ছেলের পেছনে কয়েক লাখ ডলার খরচ করেছেন। জবাবদিহিতা দাবি করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এর বিনিময়ে তিনি কী পেয়েছেন? আমাদের উত্তর দরকার।
এস এম/ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬







