উত্তর আমেরিকা

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে ওমানে হুতিদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠক

ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ১৭ সেপ্টেম্বর- মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা ও ইয়েমেনের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই বড় ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক সামরিক অগ্রাভিযান এবং লোহিত সাগর উপকূলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। আগামী মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এই বহুপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এদিকে প্রকাশ্য কূটনৈতিক তৎপরতার আড়ালে ওমানের রাজধানী মাসকাটে মার্কিন কর্মকর্তা ও হুতি প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে। মাসকাটে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে আয়োজিত এই গোপন বৈঠকে ওমান সরকার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। গত সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে হুতিদের পক্ষে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন গোষ্ঠীটির জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ আবদুস সালাম এবং আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা আবদেলমালিক আল-আজিরি। মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইয়েমেন যুদ্ধ ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে মূল আলোচনা হয়।

গোপন সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে হুতি প্রতিনিধিরা মার্কিন কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো জাহাজে আক্রমণ চালানোর ইচ্ছা তাদের নেই এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগের যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতিশ্রুতি রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এছাড়া হুতিরা জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলি বা সাধারণ কোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা করবে না। তবে ইয়েমেন সংকটে সৌদি আরবের ভূমিকা বিবেচনায় তাদের জাহাজের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন, ওয়াশিংটন হুতিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও জানিয়েছেন, হুতিরা মার্কিন প্রশাসনকে ইয়েমেন যুদ্ধ থেকে দূরে থাকার বার্তা দিয়েছে। তবে ওমানে অনুষ্ঠিত বৈঠক নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা এবং অঞ্চলটিতে চরমপন্থার বিস্তার ঠেকানোই ওয়াশিংটনের মূল অগ্রাধিকার।

সম্প্রতি হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলসহ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা এবং বাব আল-মানদেব প্রণালির পেরিম দ্বীপের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে সরাসরি সামরিক সহায়তা চাইলেও ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা সরাসরি ইয়েমেন যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী নয়। ২০১৪ সালে হুতিদের সানা দখলের পর থেকে সৌদি জোটের সঙ্গে চলমান বিরোধ মাঝখানে থেমে গেলেও সম্প্রতি সৌদি অবরোধের মুখে হুতিদের লোহিত সাগরে পাল্টা কঠোর পদক্ষেপের কারণে সেখানে আবারও নতুন করে তীব্র সংঘাত শুরু হয়েছে।

এস এম/ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

Back to top button
🌐 Read in Your Language