উত্তর আমেরিকা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলায় রুশ গোয়েন্দা সহায়তার দাবি, স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহারের কথা সিএনএনের

স্যাটেলাইট তথ্য

ওয়াশিংটন, ১৭ সেপ্টেম্বর- মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের সাম্প্রতিক নিখুঁত হামলায় সহায়তার জন্য রাশিয়া গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে। সিএনএন মার্কিন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, রাশিয়ার শক্তিশালী স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও বাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য ইরানি বাহিনীকে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার নির্ভুলতা এবং কার্যকারিতা অনেক বেড়েছে।

এ নিয়ে বিশেষভাবে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে গত ২৭ মার্চের ইরানি হামলার ঘটনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ওই হামলায় ১২ জন মার্কিন সামরিক সদস্য আহত হন এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (অ্যাওয়াক্স) নজরদারি বিমান ধ্বংস হয়ে যায়। কক্ষপথে স্যাটেলাইটগুলোর গতিপথের তথ্য বিশ্লেষণ করে সিএনএন জানিয়েছে, হামলার ঠিক দুই দিন আগে রাশিয়ার ‘কসমস ২৫৭৩’ নামের একটি প্রধান গোয়েন্দা স্যাটেলাইটসহ মোট ১৪টি রুশ কৃত্রিম উপগ্রহ ওই ঘাঁটির ওপর দিয়ে অতিক্রম করেছিল। এসব স্যাটেলাইট একসঙ্গে অত্যন্ত নির্ভুল গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম ছিল।

প্রতিবেদনে গোয়েন্দা প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলা হয়েছে, রাশিয়ার স্যাটেলাইট বহরে থাকা অপটিক্যাল স্যাটেলাইটের মাধ্যমে উচ্চমানের ছবি তোলার পাশাপাশি সিগন্যাল-ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাডার ও রেডিও তরঙ্গের সংকেত শনাক্ত করা হয়। এছাড়া ইনফ্রারেড প্রযুক্তির মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তুর তাপীয় উপস্থিতি এবং সিন্থেটিক অ্যাপারচার রাডার (এসএআর) ব্যবহার করে রাত বা মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়াতেও সূক্ষ্ম পরিবর্তন ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। মার্কিন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এসব প্রযুক্তির সম্মিলিত সহায়তার কারণেই ইরানি বাহিনী লক্ষ্যবস্তুর সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করে নির্ভুল হামলা চালাতে পেরেছে।

কিং’স কলেজ লন্ডনের ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক নওয়াফ ওবায়েদ এই ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সহায়তার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, রাশিয়া মূলত সুদে-আসলে আমেরিকার কাছ থেকে প্রতিশোধ নিচ্ছে। এর ফলে শুধু মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েনি, বরং পুরো আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোতেও একটি সুদূরপ্রসারী পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে।

এস এম/ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

Back to top button
🌐 Read in Your Language