জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ: আহত ২

ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর – পুরান ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে আবারও প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। সংগঠনটির সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন হক অনিকের অনুসারীদের মধ্যে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এলাকা। রড ও পাইপ উঁচিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে সৃষ্টি হয় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং সংলগ্ন ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ক্যাম্পাসের সংঘাত: যেভাবে শুরু ঘটনা
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে সংঘাতের যে চিত্র সামনে এসেছে:
ফেসবুকে উত্তেজনার সূত্রপাত: জানা গেছে, শনিবার রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সদস্যসচিব আরেফিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক অনিকের অনুসারী নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম পাল্টাপাল্টি পোস্ট দেওয়া-নেওয়া চলছিল। এক পক্ষের কটাক্ষমূলক পোস্টের জবাবে অন্য পক্ষ পাল্টা জবাব দিলে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়।
ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে কাঁঠালতলা: রোববার দুপুরে ভিক্টোরিয়া পার্কের পাশের একটি চায়ের দোকানে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির মাধ্যমে সংঘাতের সূচনা হয়। মুহূর্তের মধ্যেই তা ক্যাম্পাসের ভেতরের ‘কাঁঠালতলা’ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
রড-পাইপ নিয়ে হামলা: সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষের কর্মীদের হাতে রড ও পাইপ দেখা যায়। একে অপরকে ধাওয়া ও অতর্কিত হামলায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রাঙ্গণে হুড়োহুড়ি শুরু হয়।
আহতদের পরিচয় ও সার্বিক পরিস্থিতি
এই সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টির দুই শিক্ষার্থী মারাত্মক আহত হয়েছেন:
আহত শিক্ষার্থী: অর্থনীতি বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী মাদুদ এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমন। ঘটনার পরপরই তাঁদের চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হলেও কোথায় চিকিৎসা চলছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রক্টরের বক্তব্য: ক্যাম্পাসের উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে জবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান জানান, “দুই গ্রুপের নাম নির্দিষ্ট করে না জানলেও সংঘর্ষের বিষয়টি সত্য। আমরা দ্রুত পুলিশ ডেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিবেশ মোটামুটি শান্ত রয়েছে।”
ভার্চুয়াল জগতের পোস্ট ঘিরে এই সংঘাতের সূচনা কি না কিংবা এর পেছনে গভীর কোনো দলীয় কোন্দল রয়েছে কি না, তা নিয়ে নানা গুঞ্জন চললেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এনএন/ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
FAQ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে?
প্রাথমিকভাবে জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফীন ও যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন হক অনিকের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে।
সংঘর্ষ কোথায় হয়েছিল?
ভিক্টোরিয়া পার্কসংলগ্ন এলাকা থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়ে তা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কাঁঠালতলা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
সংঘর্ষে কতজন আহত হয়েছেন?
বিভিন্ন প্রতিবেদনে দুই থেকে চারজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে আহতের চূড়ান্ত সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি এবং প্রক্টর উল্লেখযোগ্য আহতের তথ্য পাওয়ার কথা জানাননি।
নাহিয়ান বিন অনিককে কেন শোকজ করা হয়েছে?
কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
কতজন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে?
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী জবি শাখার আট নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।







