সেপ্টেম্বরের ২০ দিনেই ৮৭ প্রাণহানি: ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ মৃত্যু

ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর – দেশে মশাবাহিত ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন অনিয়ন্ত্রিত রূপ নিচ্ছে। বর্ষা পেরিয়ে এলেও কমার নাম নেই এডিস মশার তাণ্ডব, বরং সেপ্টেম্বর মাসে এসে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারাদেশে ১ হাজার ৫৯৩ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রতিদিনের ধারাবাহিকতায় এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করা হয়। দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীদের চাপ বাড়ায় আবারও চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
সেপ্টেম্বরেই কেন এত বড় ধাক্কা?
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাসিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি বছরের অন্য যেকোনো মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর থাবা সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে:
সেপ্টেম্বরের রেকর্ড মৃত্যু: চলতি বছরের মোট ১৮৪ জন মৃত্যুর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরের প্রথম ২০ দিনেই প্রাণ হারিয়েছেন ৮৭ জন—যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৪৮ শতাংশ!
মাসভিত্তিক মৃত্যুর চিত্র: বিগত মাসগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে ১ জন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ২ জন করে আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছিল।
আক্রান্তের বিশাল সংখ্যা: চলতি বছরে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ হাজার ৯৭২ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫ হাজার ৬১০ জন এবং গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৫৬৭ জন।
বিভাগীয় চিত্র: ঢাকার অবস্থা সবচেয়ে সংকটজনক
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে স্পষ্ট হয় যে রাজধানী ও তার আশপাশের এলাকাগুলোতে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি। তবে ঢাকার বাইরে খুলনা ও চট্টগ্রামেও পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক।
- ঢাকা বিভাগ ৬৮৭ জন
- খুলনা বিভাগ ১৯২ জন
- চট্টগ্রাম বিভাগ ১৬৭ জন
- বরিশাল বিভাগ ১৫৪ জন
- রাজশাহী বিভাগ ১৩৭ জন
- ময়মনসিংহ বিভাগ ৮২ জন
- রংপুর বিভাগ ৬৫ জন
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করণীয় ও সতর্কতা
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাসাবাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার না করা এবং চিকিৎসা নিতে দেরি করাই মূলত প্রাণহানি বাড়িয়ে দেওয়ার মূল কারণ।
প্লাটিলেট ও ডিহাইড্রেশন সচেতনতা: লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই ডেঙ্গু এনএস১ (NS1) পরীক্ষা করানো উচিত। শরীরে পানিশূন্যতা হতে না দেওয়া এবং প্লাটিলেট কাউন্টের ওপর নজর রাখা জরুরি।
মশা তাড়ানোর ব্যবস্থা: ঘুমানোর সময় মশারির নিয়মিত ব্যবহার ও বাসার ছাদ, ফুলের টব বা ড্রামে জমে থাকা পানি প্রতি তিন দিনে অন্তত একবার ফেলে দেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
এনএন/ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬







