তুরস্কে স্কুলের সামনে কিশোরের গুলিতে ১১ শিক্ষার্থী আহত

আঙ্কারা,২৩ সেপ্টেম্বর- তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এক কিশোরের করা বন্দুক হামলায় অন্তত ১১ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত হামলাকারীকে আটক করেছে।
আঞ্চলিক গভর্নরের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ইজমির রিসোর্ট শহরের কাছের মানিসা প্রদেশের তুরগুতলু এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
দেশটির বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, এই হামলায় ১১ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলা চালানো ওই অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, হামলার কারণ খুঁজে বের করতে তদন্তকারীরা ওই কিশোরের বাবা-মা এবং দাদাকেও আটক করেছে।
ঘটনার সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পাশাপাশি উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরাও সেখানে ছুটে যান। স্থানীয় আইএইচএ বার্তা সংস্থাকে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, হঠাৎ গোলাগুলির শব্দ শুনে তিনি ব্যালকনিতে ছুটে যান। ছেলেটি গালিগালাজ করতে করতে গলি দিয়ে হাঁটছিল এবং চিৎকার করছিল। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তার হাতে থাকা বন্দুক দিয়ে সে মানুষের ওপর গুলি চালায়। কিন্তু তার হাতে রাইফেল থাকায় কেউ গিয়ে তাকে বাধা দিতে পারেনি।
ডিএইচএ সংবাদ সংস্থার প্রচারিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কালো জিন্স, জ্যাকেট এবং সবুজ রঙের পোশাক পরা এক যুবক লম্বা ব্যারেলের একটি অস্ত্র হাতে নিয়ে যাচ্ছে। এনটিভি নিউজ চ্যানেল জানিয়েছে, ব্যবহৃত অস্ত্রটি ছিল একটি শটগান। পরে বিদ্যালয়ের বাইরে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, পুলিশ এক যুবককে মাটিতে ফেলে কাবু করছে এবং টেনে নিয়ে যাচ্ছে। এ সময় পাশেই এক নারী চিৎকার করছিলেন এবং উৎসুক জনতা সীমানা প্রাচীরের পাশ থেকে মোবাইলে ভিডিও করছিলেন।
বিচারমন্ত্রী গুরলেক এক্সে জানান, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। অস্ত্রটি কীভাবে ওই অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরের হাতে এল, সেটি কার নজরদারিতে রাখা ছিল এবং ঘটনার আগে সেখানে কোনো বুলিং বা উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ ছিল কি না, এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ওই স্কুলে দিনের মতো সব ক্লাস স্থগিত ঘোষণা করেছে।
এস এম/ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬







