ডিজেল রফতানি বন্ধ হলে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বাড়তে পারে: মরগান স্ট্যানলি

ওয়াশিংটন, ২৫ সেপ্টেম্বর- যুক্তরাষ্ট্রে আকাশচুম্বী ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসন যদি ডিজেল রফতানি নিষিদ্ধ করে, তাহলে দেশটিতে গ্যাসোলিন বা পেট্রোলের দাম কমার বদলে উল্টো অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বৈশ্বিক বিনিয়োগ ব্যাংক মরগান স্ট্যানলির বিশ্লেষকেরা এ ধরনের পদক্ষেপের নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ওয়াশিংটনে যখন ডিজেল রফতানি বন্ধের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে, ঠিক তখনই ব্যাংকটির এই পূর্বাভাস সামনে এসেছে।
সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গে প্রকাশিত মরগান স্ট্যানলির এক নোটে জানানো হয়েছে, ডিজেল রফতানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে মার্কিন শোধনাগারগুলোতে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উদ্বৃত্ত ডিজেল সংরক্ষণের জায়গা বা স্টোরেজ পুরোপুরি পূর্ণ হয়ে যাবে। নিজেদের ধারণক্ষমতা না থাকায় বাধ্য হয়েই শোধনাগারগুলোকে দৈনিক তেল প্রক্রিয়াকরণ বা উৎপাদনের হার কমিয়ে দিতে হবে। অপরিশোধিত তেল শোধনের সময় ডিজেল ও পেট্রোল একই সঙ্গে উৎপাদিত হয়। ফলে ডিজেলের মজুত পূর্ণ হয়ে যাওয়ার কারণে শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমালে সরাসরি পেট্রোলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং বাজারে পেট্রলের দাম আবারও বেড়ে যেতে পারে।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পর্যায়ে সাধারণ পেট্রোলের জাতীয় গড় দাম প্রতি গ্যালনে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৪৭ ডলারে, যা গত মাসে ছিল ৪ দশমিক ১০ ডলার। অন্যদিকে প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম বেড়ে ৬ দশমিক ৫২ ডলারে ঠেকেছে। দেশে চালক, কৃষক ও পরিবহন খাতের আর্থিক সংকট বিবেচনায় আইওয়ার সেনেটর চাক গ্রাসলির নেতৃত্বে রিপাবলিকান সিনেটররা ডিজেল রফতানি বন্ধের জোরালো দাবি জানিয়ে আসছেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট শুরুতে ডিজেল রফতানি নিষিদ্ধের ইঙ্গিত দিলেও পরে হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করেছে যে আপাতত এমন কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। দেশটির বর্তমান জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এই সিদ্ধান্তকে একটি অকার্যকর নীতি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টিরও বেশি ব্যবসায়ী ও জ্বালানি সংগঠন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যৌথ চিঠি পাঠিয়ে সতর্ক করেছে যে, এ ধরনের বিধিনিষেধ দেশের সামগ্রিক জ্বালানি উৎপাদন কমিয়ে সাধারণ পরিবার ও ব্যবসায়ীদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে।
এস এম/ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬







