ভারতে ৪৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে তীব্র কয়লা সংকট, বিপাকে বিদ্যুৎ উৎপাদন

নয়াদিল্লি, ২৭ আগস্ট – ভারতের ৪৫টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লার মজুত আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। দেশটির সরকারি তথ্যানুসারে, বর্ষার কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদার ফলে এই সংকট তৈরি হয়েছে।
গত ২৫ আগস্টের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রে নির্ধারিত মজুতের ২৫ শতাংশের কম কয়লা রয়েছে। মূলত অনেক কেন্দ্রে মাত্র তিন দিনেরও কম সময় উৎপাদন সচল রাখার মতো জ্বালানি অবশিষ্ট আছে। গত জুলাই মাসে সংকটে থাকা কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ৩১টি, যা মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ৪৫টিতে উন্নীত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, সংকটে থাকা ৪৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪০টিই দেশীয় কয়লার ওপর নির্ভরশীল। ওডিশা, ঝাড়খণ্ড এবং ছত্তিশগড়ের মতো প্রধান কয়লা উৎপাদনকারী রাজ্যগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের কাজ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে খনি থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা পরিবহনের গতিও কমে গেছে।
পণ্যবাজার পরামর্শক সংস্থা বিগমিন্ট জানিয়েছে, জুলাইয়ের তুলনায় আগস্ট মাসে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কয়লার মজুত প্রায় ১৯ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ৩ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার টন কয়লা মজুত রয়েছে, যা দিয়ে বড়জোর ১০ দিন বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
এদিকে এল নিনোর প্রভাবে ২০০৯ সালের পর চলতি বছর ভারতে সবচেয়ে দুর্বল বর্ষা মৌসুম চলছে। অসম বৃষ্টিপাতের ফলে তীব্র গরমে এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা তুঙ্গে উঠেছে।
এনটিপিসির একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, বর্তমানে কয়লার সরবরাহ অত্যন্ত সীমিত মজুতের ওপর নির্ভর করছে। কোনো কোনো কেন্দ্রে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬টি কয়লাবাহী রেক প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে তার মাত্র অর্ধেক। এমন পরিস্থিতিতে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বেশ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ পিছিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়।
এনএন/ ২৭ আগস্ট ২০২৬









