জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ভারত ও চীনের প্রতি নেপালের যৌথ পদক্ষেপের আহ্বান

কাঠমান্ডু, ২৭ আগস্ট – ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল জলবায়ু পরিবর্তনের সংকট মোকাবিলায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। নেপালি নেতৃবৃন্দের মতে, সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ এটিই প্রমাণ করেছে যে প্রকৃতি কোনো ভৌগোলিক সীমানা বা মানচিত্রের তোয়াক্কা করে না।
কাঠমান্ডুতে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড অন্বীক্ষা সম্মেলনে নেপালের ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির সভাপতি রবি লামিছানে এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদান করেন। ভারত ও চীনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের দেশ তিনটি হলেও পর্বতমালা অভিন্ন। গত বুধবারের পানির তোড়ে যে প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে, তা কোনো নির্দিষ্ট সীমানা মেনে চলেনি।
হিমালয় আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার চেয়েও দ্রুত গতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে। হিমবাহ গলে নতুন হ্রদ সৃষ্টি হওয়াকে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের কঠোর বাস্তবতা হিসেবে অভিহিত করে একটি কার্যকর অভিযোজন পরিকল্পনার ওপর জোর দেন। নেপালের এই রাজনৈতিক নেতা আরও উল্লেখ করেন, উপত্যকার পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অন্তত ২০ মিনিট সময় নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
বন্যার ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি জানান, আকস্মিক ঢলে বহু গ্রাম, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বাড়িঘর ও সেতু সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় এখনও বহু পরিবার প্রহর গুনছে। এই কঠিন সময়ে তাৎক্ষণিক সহায়তা পাঠানো এবং সংহতি প্রকাশের জন্য তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান।
অন্যদিকে দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলো থেকে বেঁচে ফেরা মানুষরা তাদের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করছেন। প্রত্যক্ষদর্শী জনক বাহাদুর জানান, পাহাড়ি ঢল হঠাৎ বোমার মতো আছড়ে পড়ে সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের প্রকৃত সংখ্যা এখনও অজানা। দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে মূলত হেলিকপ্টারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
এস এম/ ২৭ আগস্ট ২০২৬









