ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বের অনুমতি দিল ভারত

দিল্লি, ২৭ আগস্ট – নিজেদের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এবং দীর্ঘদিনের সরকারি একচেটিয়া আধিপত্য ভেঙে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ভারত। দেশটির সরকার তাদের সবচেয়ে গোপনীয় ও সংবেদনশীল খাতের অন্যতম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) প্রস্তুত করা সমস্ত সনাতন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রযুক্তি স্থানীয় বেসরকারি প্রতিরক্ষা শিল্পে হস্তান্তরের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় কারিগরি যোগ্যতা এবং নিয়ন্ত্রক শর্তাবলি পূরণ করে এসব প্রযুক্তির মালিকানা ও উৎপাদন অধিকারের জন্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে।
নরেন্দ্র মোদি সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলো ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর গবেষণা ও উন্নয়ন পর্যায় থেকে দ্রুত বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য তৈরি হওয়া বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে আনা। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে রাজনাথ সিং ডিআরডিও কর্তৃক উদ্ভাবিত সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সমস্ত প্রযুক্তি স্থানীয় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর কাছে হস্তান্তরের প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন।
এর মূল লক্ষ্য হলো দেশে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা। এই ঘোষণার আওতায় ভূপৃষ্ঠ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ট্যাংকভেদী ব্যবস্থার মতো যুদ্ধ সরঞ্জামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ভারত দীর্ঘদিন ধরে তাদের গবেষণা সংস্থার তৈরি করা অস্ত্রগুলোকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে এসেছে। সরকারি সংস্থাগুলো এতদিন দেশের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে প্রায় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল। মোদি সরকারের আত্মনির্ভর ভারত নীতির অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা খাতে নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিদেশি প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোকে ভারতে উৎপাদনে উৎসাহিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির পরিবর্তন এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারত তার প্রতিরক্ষা বাজেট বহুগুণ বাড়িয়েছে। আধুনিক যুদ্ধে গোলাবারুদের দ্রুত সমাপ্তি এবং বিশাল সামরিক মজুত বজায় রাখার প্রয়োজনে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে ভারতের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী থেকে শুরু করে শত শত স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। ভারত একই সঙ্গে নৌবাহিনীকে আধুনিকায়ন করতে নতুন জাহাজ ও সাবমেরিন তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভারত রাশিয়ার ওপর দীর্ঘদিনের সামরিক নির্ভরতা কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে এই নীতি কতটুকু সফল হবে তা নির্ভর করবে সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ক্রয়াদেশ পাওয়ার ওপর।
এস এম/ ২৭ আগস্ট ২০২৬









