ভারত কোনো ধর্মশালা নয়, অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর হুঁশিয়ারি অমিত শাহর

নয়াদিল্লি, ২৬ আগস্ট – ভারত কোনো ধর্মশালা নয় এবং দেশের মাটিতে বসবাসসহ সব রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা পাওয়ার অধিকার কেবল ভারতীয় নাগরিকদের বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অনুপ্রবেশকারীরা ভারতের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং জনবিন্যাসের জন্য বড় হুমকি হিসেবে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নয়াদিল্লিতে গোয়েন্দা ব্যুরোর জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এমন কড়া বার্তা দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
অমিত শাহ বলেন, গত আট মাসে ভারতের সব স্থলসীমান্তবর্তী রাজ্যে গিয়ে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সীমান্ত নিরাপত্তার চার দফা কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে দেশকে অনুপ্রবেশমুক্ত করাই কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে সীমান্তরক্ষী বাহিনী, রাজ্য প্রশাসন, কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের সমন্বিত ভূমিকার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, অনুপ্রবেশ কেবল জাতীয় নিরাপত্তার সমস্যা নয় বরং এর সঙ্গে দেশের অর্থনীতি এবং জনবিন্যাসের ভারসাম্যের প্রশ্ন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে।
২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। আগামী দিনে কী ধরনের নিরাপত্তা সমস্যা তৈরি হতে পারে তা এখন থেকেই চিহ্নিত করে মোকাবিলার কৌশল তৈরি রাখতে হবে।
পূর্ববর্তী সরকারগুলোর সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, মাদক পাচার, নকশালবাদ এবং উত্তর পূর্ব ভারতের অশান্তির মতো সমস্যাগুলো শুরুতে গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা করলে দেশকে দীর্ঘ সময় ধরে চরম মূল্য দিতে হতো না। তবে বর্তমানে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রধান তিনটি সংকটের চ্যালেঞ্জ অনেকটাই মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এই সাফল্যের পেছনে রাজ্য পুলিশ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর বড় ভূমিকা রয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানেও রাজ্যগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন অমিত শাহ। নতুন প্রজন্মকে মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষা করতে নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় গোয়েন্দা তথ্যের দ্রুত আদান প্রদান এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
মূলত উন্নত ভারতের লক্ষ্য অর্জনে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকেই এখন দিল্লির অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
এনএন/ ২৬ আগস্ট ২০২৬









