দক্ষিণ এশিয়া

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় আমগাছে আটকে অলৌকিকভাবে প্রাণ বাঁচল শ্রমিকের

কাঠমান্ডু, ২৭ আগস্ট – তীব্র জলস্রোত আর পাথর ও কাদার প্রবল প্রবাহের মুখে নেপালি শ্রমিক বিবেক কুমাল যখন লড়াই করছিলেন তখন একটি আমগাছ তাঁর জীবনে আশীর্বাদ হয়ে দেখা দেয়। তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালের রসিকুয়া জেলার একটি বাড়িতে কাজ করার সময় হঠাৎ নেমে আসা বন্যায় ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল চব্বিশ বছর বয়সী এই যুবকের।

তবে একটি আমগাছে আটকে গিয়ে অলৌকিকভাবে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন তিনি। ঘটনার সময় বিদুর এলাকায় একটি নবনির্মিত বাড়ির শৌচাগারের গর্ত খুঁড়ছিলেন কুমাল। হঠাৎ একটি অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পেয়ে গর্ত থেকে উঠে আসার চেষ্টা করেন তিনি। তাঁর সাথে থাকা সহকর্মীরা দ্রুত পালিয়ে যেতে পারলেও তিনি গর্তে আটকা পড়েছিলেন।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ভূমিকম্পের মতো গর্জনে আসা পানির বিশাল দেয়াল তাঁকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কুমাল জানান যে আমগাছটি না থাকলে সেদিন তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত ছিল। পানির তোড়ে তিনি যে বাড়িতে কাজ করছিলেন সেটি তাঁর চোখের সামনেই মাটির নিচে হারিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে তাঁকে গাছ থেকে উদ্ধার করে।

নেপালের এই ভয়াবহ বন্যায় এ পর্যন্ত অন্তত ৯৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেক পর্যটক ও স্থানীয় মানুষ। ধারণা করা হচ্ছে যে তিব্বত সীমান্তে একটি ভূমিধসের ফলে নদীতে কাদা ও পাথর পড়ে এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এর আগে ওই এলাকায় ৪.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল বলেও জানা গেছে।

বর্তমানে কাঠমান্ডুর ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন কুমাল। তাঁর পাশাপাশি রীহানা লামিছানে নামের ১১ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীও চিকিৎসাধীন রয়েছে। স্কুল থেকে ফেরার পথে নদী পার হওয়ার সময় সে বন্যার কবলে পড়েছিল। অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও তার সহপাঠীদের পরিণতি সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি।

নেপাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে দুর্গত এলাকাগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ১১৪ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাহাড়ি এই দেশে প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

এস এম/ ২৭ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language