উত্তর আমেরিকা

৩০ লাখ টাকা খরচ করে আমেরিকায় এসে প্রাণ হারালেন ইউসুফ রাজু

নজরুল মিন্টো

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে কর্মস্থলে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হয়েছেন ৪৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি প্রবাসী মোহাম্মদ ইউসুফ রাজু। শনিবার গভীর রাতে ব্রুকলিনের ইস্ট নিউইয়র্কের রকওয়ে পার্কওয়ে (Rockaway Parkway) এলাকায় একটি বাংলাদেশি মালিকানাধীন ফ্রাইড চিকেন রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে। রাজু সেখানে কর্মরত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে এক বন্দুকধারী দোকানে ঢুকে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি চালায়। আকস্মিক হামলায় রাজুসহ দোকানের দুই বাংলাদেশি কর্মী গুলিবিদ্ধ হন। একটি গুলি রাজুর মাথায় লাগে। অপর কর্মীর পায়ে গুলি লাগে।

খবর পেয়ে জরুরি সেবা ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে ব্রুকলিনের ওয়ান ব্রুকলিন হেলথ-ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রাজুকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অপর আহত কর্মী চিকিৎসা শেষে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

রাজুর বাড়ি নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংশনগর এলাকায়। প্রায় তিন বছর আগে জীবিকার তাগিদে এবং পরিবারের জন্য উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ার আশায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে দালালকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা দিতে হয়েছিল তাঁকে। পরে স্থায়ীভাবে বসবাসের আশায় রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন তিনি।

অভিবাসী জীবনের শুরুটা সহজ ছিল না রাজুর। তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সাবেক রুমমেট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর শুরুর দিকে রাজু তাঁদের সঙ্গেই ছিলেন। তাঁর কাছ থেকেই রাইড শেয়ারিং ও ফুড ডেলিভারির কাজ শিখেছিলেন রাজু। কঠিন দিনগুলো পার করে যখন ধীরে ধীরে জীবন গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, ঠিক তখনই ঘটে গেল এই মর্মান্তিক ঘটনা।

রাজুর মৃত্যুর খবর যখন আটলান্টিক পেরিয়ে নোয়াখালীর বাড়িতে পৌঁছায়, তখন মুহূর্তেই একটি পরিবারের ভবিষ্যতের হিসাব বদলে যায়। যে মানুষটি স্ত্রী ও তিন সন্তানের জীবন বদলে দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন, তিনিই এখন ফিরবেন নিথর হয়ে। তাঁর মা-বাবা, ভাই-বোন ও স্বজনদের অপেক্ষাও শেষ হলো এমন এক সংবাদে, যার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিলেন না।

এ ঘটনার পর নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে আবারও সামনে এসেছে কর্মস্থলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার প্রশ্ন। গ্রোসারি স্টোর, ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ফুড ডেলিভারি ও রেস্টুরেন্ট সেক্টরে কর্মরত অনেক প্রবাসী গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেন। ফলে বন্দুক সহিংসতা ও অপরাধের ঘটনায় তাঁদের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

রাজুর মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানো এবং বাংলাদেশে থাকা তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কমিউনিটিভিত্তিক আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


Back to top button
🌐 Read in Your Language