চলমান পরীক্ষা হঠাৎ স্থগিত, বিপাকে বেরোবির শিক্ষার্থীরা

রংপুর, ২৬ ফেব্রুয়ারি – বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) এ বিভিন্ন বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তরসহ সব ধরণের চলমান পরীক্ষা হঠাৎ স্থগিতে চরম বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা । শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এমন সিদ্ধান্ত নেয় ।
করোনার কারণে প্রায় এক বছর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিলো। সম্প্রতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হওয়ায় আবাসিক হল খুলে দেয়ার দাবি উঠেছে । এ নিয়ে আন্দোলনে সরব ছিলো বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ।
জানা গেছে, করোনাকালীন ছুটির আগে নানা বিভাগের পরীক্ষা পুরোদমে চলছিলো। কিছু বিভাগ শেষ করতে পারলেও অধিকাংশ বিভাগ পরীক্ষার মাঝামাঝি এসে আটকে যায়। আবার কিছু বিভাগের পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হলেও নেয়া হয়নি। এসব বিষয় বিবেচনা করে এবং সেশনজট নিরসনের লক্ষে আটকে থাকা পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয় বিভাগগুলো ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লোক প্রসাশন বিভাগ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগ, ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, জেন্ডার ডিভিলপমেন্ট স্টাডিস বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, রসায়ন বিভাগ এবং গণিত বিভাগসহ অধিকাংশ বিভাগের একাধিক সেশনের চলমান পরীক্ষার দু’একটি পরীক্ষা আটকে আছে ।
আরও পড়ুন : ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে : অধ্যাপক সামিয়া রহমান
এ বিষয়ে একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে তারা জানান, করোনা সঙ্কটের কারণে আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি । টানা এক বছরের মতো ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার পর আমরা সাময়িক সময়ের জন্য কেবল পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পাই । কিন্তু পরিক্ষা শেষ হতে না হতেই পুনরায় বন্ধের ঘোষণা দেয় । যার ফলে আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছি । এ দায় কার?
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী নকিবুল হাসান নকিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে আসতে আমাদের অনেক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। অনেকের নতুন করে মেস নিতে হয়েছে। এখন হুট করে পরিক্ষা বন্ধ করে দেয়ায় আবার বাড়ির দিকে যেতে হচ্ছে। পরীক্ষার কথা বলে শিক্ষার্থীদের আনা হলো। আবার চলে যাওয়াটা মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির কারণ অন্যদিকে সেশন জটের কবলে পড়ছি। ২০২০ সালে আমাদের স্নাতক শেষ হওয়া কথা ছিলো যা ২১ সালেও শেষ হলো না । এটা খুবেই হতাশা জনক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বরাত দিয়ে তাবিউর রহমান প্রধান বলেন, শিক্ষার্থীদের সেশনজট নিরসনের জন্য নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো । সরকারি ঘোষণা আসায় সেটা সম্ভব হলো না । সরকারি সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন কিছু উদ্যোগ নেয়া যাচ্ছে না।
সূত্র : প্রতিদিনের সংবাদ
এন এইচ, ২৬ ফেব্রুয়ারি







